সুনামগঞ্জের দেখার হাওরে পানির তীব্র স্রোতে ভেঙে যাওয়া বাঁধটি শেষ পর্যন্ত আপ্রাণ চেষ্টায় রক্ষা করলেন হাজারো কৃষক। শনিবার সকালে পানির চাপে দেখার হাওরের একাংশের উতারিয়া ফসল রক্ষা বাঁধটি ভেঙে যায়। পরে টানা কয়েক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে বাঁধটি রক্ষা করতে সক্ষম হন। তবে এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি তাদের আওতাধীন কোনো ফসল রক্ষা বাঁধ নয়। স্থানীয় কৃষকেরাই প্রয়োজন অনুযায়ী এ ধরনের বাঁধ নির্মাণ ও অপসারণ করে থাকেন। স্থানীয় কৃষকেরা জানান, টানা অতিবৃষ্টির কারণে দেখার হাওরের বিভিন্ন অংশে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। হাওরের উতারিয়া বাঁধের কারণে জলাবদ্ধ পানির স্রোত নদীতে নামতে না পারায় হাওরে পানির চাপ বাড়তে থাকে। এ অবস্থায় গত বুধবার উতারিয়া এলাকার বাঁধের কিছু অংশ স্থানীয় কৃষকেরা কেটে দেন পানি নিষ্কাশনের জন্য। এতে কিছুটা পানি নামলেও পরে প্রশাসনের নির্দেশে আবার বাঁধটি মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়। ফলে পুনরায় পানির চাপ সৃষ্টি হয়ে মেলানি হাওরের বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়।
শনিবার সকালে প্রথমে বাঁধে ছোট একটি নালা সৃষ্টি হয়। কয়েকজন কৃষক তাৎক্ষণিকভাবে সেটি রক্ষার চেষ্টা করলেও সফল হননি। একপর্যায়ে ভাঙা অংশটি আরও বড় হয়ে হাওরে ব্যাপক পরিমাণে পানি ঢুকে ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। স্থানীয় বাসিন্দা বুলবুল মিয়া বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এলাকাবাসীকে বাঁশ ও বস্তা নিয়ে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু বাঁধটি হাওরের গভীরে হওয়ায় লোকজন জড়ো হতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে। পরে হাজারো কৃষক একযোগে কয়েক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে বাঁধটি রক্ষা করতে সক্ষম হন। আস্তমা গ্রামের কৃষক শুকুর আলী জানান, মেলানি হাওরে তার ১২ কেয়ার জমি রয়েছে। বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় তার জমির ধান তলিয়ে গেছে। তিনি বলেন, উতারিয়া বাঁধের পানি নিষ্কাশনের নালাটি খোলা থাকলে এই ভাঙন হতো না এবং ফসলের ক্ষতিও কম হতো। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেখার হাওরে মোট জমির পরিমাণ ৪৫ হাজার ৮৫৯ হেক্টর, যার মধ্যে আবাদি জমি রয়েছে ২৪ হাজার ২১৪ হেক্টর। চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ঝাওয়া, শেয়ালমারা ও গুমরাসহ কয়েকটি এলাকায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, যে বাঁধটি দিয়ে পানি প্রবেশ করেছে সেটি পাউবোর কোনো বাঁধ নয় এবং সেখানে তাদের কোনো কাজও হয়নি। অতিবৃষ্টির পানির চাপে স্থানীয়ভাবে নির্মিত বাঁধটি ভেঙে গেছে বলে তিনি জানান। জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন এবং বাঁধটির যাতে আর ক্ষতি না হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
