বোলিং অ্যাকশন নিয়ে উসমান তারিকের বিতর্কের মুখে পড়ার ঘটনা নতুন নয়। পাকিস্তান সুপার লীগের (পিএসএল) উত্তাপ ছাপিয়ে এখন নতুন করে আলোচনায় কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটরসের এ রহস্যময় স্পিনার। শুক্রবার রাওয়ালপিন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচে তারিকের ডেলিভারির ঠিক আগের ‘পজ’ বা থমকে যাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে তুমুল বিতর্ক। এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন ড্যারিল মিচেল। রবিচন্দ্রন অশ্বিনের দেয়া এক পুরনো চ্যালেঞ্জেরই বাস্তব প্রতিফলন ঘটালেন এ নিউজিল্যান্ড বাটার।
ঘটনাটি রাওয়ালপিন্ডিজের ইনিংসের নবম ওভারের। ১৮৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে থাকা মিচেলকে বল করতে আসেন তারিক। কিউই ব্যাটার লক্ষ্য করেন, তারিক বল ছাড়ার ঠিক আগমুহূর্তে অস্বাভাবিকভাবে থমকে যাচ্ছেন। এর প্রতিবাদে তারিক হাত ঘোরানোর আগেই স্টাম্প ছেড়ে সরে দাঁড়ান মিচেল। একবার নয়, পরপর দু’বার তিনি এমনটি করলে মেজাজ হারান বোলার। দ্বিতীয়বার তারিক বল ছুঁড়লেও সেটিকে ‘ডেড বল’ ঘোষণা করেন আম্পায়ার। মিচেলের সরে যাওয়া নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখান ২৮ বছর বয়সী তারিক। পরিস্থিতি সামলাতে তখন আম্পায়ারদের হস্তক্ষেপ করতে হয়। ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজা অবশ্য মিচেলের এমন আচরণে বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, ‘ব্যাটারকে আরও পেশাদার হওয়া উচিত।"
মজার ব্যাপার হলো, গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় ভারতের সাবেক অলরাউন্ডার অশ্বিন তারিকের এই অ্যাকশন নিয়ে একটি ‘ডেয়ার’ অথবা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। তিনি বলেন, ‘তারিক যদি ডেলিভারির আগে এভাবে থামেন, তবে ব্যাটারের অধিকার আছে সরে দাঁড়ানোর। আমি দেখতে চাই কে এই সাহসটা দেখায়।’ বিশ্বকাপে কেউ না করলেও, পিসিএলে সেই সাহস দেখালেন মিচেল। তবে শেষ পর্যন্ত দলকে জেতাতে পারেননি তিনি। পিন্ডিজ হার দেখে ৬১ রানের বিশাল ব্যবধানে, যা টুর্নামেন্টে তাদের টানা পঞ্চম হার।
এর আগে ফেব্রুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়া সিরিজেও তারিকের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আউট হওয়ার পর চরম অসন্তুষ্টি জানান অজি তারকা ক্যামেরন গ্রিন। পিএসএলে অবশ্য চাকিংয়ের অভিযোগ তোলা হয় তারিকের বিরুদ্ধে। আম্পায়ারদের অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে বায়োমেকানিক্যাল পরীক্ষাও দিতে হয় তারিককে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পুনরায় বোলিংয়ে ফেরেন তিনি।
