তামাকের ক্ষেত্রে অমনোযোগী নীতির কারণে সরকার বছরে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব হারাচ্ছে। সঠিক কর আরোপ করলে সরকার অতিরিক্ত এক লাখ ২ হাজার ৩০২ কোটি টাকা (৮.৫৩ বিলিয়ন ডলার) রাজস্ব পেতে পারতো গত এক দশকে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও তরুণদের তামাক ব্যবহার থেকে বিরত রাখতে সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তর একত্র করে প্রতি ১০ শলাকা প্যাকেটের সর্বনিম্ন মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানান বক্তারা। একই সঙ্গে সব স্তরে প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাক কর বৃদ্ধি: জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সাংবাদিকদের করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় এই তথ্য উঠে এসেছে। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সাফিউন নাহিন শিমুল। মূল প্রবন্ধে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি ৩৫.৩ শতাংশ (গ্যাটস ২০১৭)। তামাকজনিত রোগে দেশে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটে। ২০২৪ সালে তামাক ব্যবহার ও উৎপাদনের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা যা থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব (প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা)-এর দ্বিগুণেরও বেশি। প্রবন্ধে আরও উল্লেখ করা হয়, দেশের বর্তমান বহুস্তরবিশিষ্ট তামাক কর কাঠামো জটিল এবং তা তামাক ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে কার্যকর নয়। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট সহজলভ্য থাকায় তরুণদের মধ্যে তামাক ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। তাই আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিম্ন ও মধ্যম স্তর একত্র করে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের প্যাকেটের খুচরা মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি উচ্চ স্তরে ১৫০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরে ২০০ টাকা নির্ধারণ এবং সব স্তরে প্যাকেটপ্রতি ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে। অধ্যাপক সাফিউন নাহিন শিমুল বলেন, বর্তমান বহুস্তরবিশিষ্ট তামাক কর কাঠামো তামাক নিয়ন্ত্রণে প্রত্যাশিত ফল দিচ্ছে না। নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট সহজলভ্য থাকায় ব্যবহারকারীরা সহজেই এক স্তর থেকে অন্য স্তরে সরে গিয়ে ধূমপান অব্যাহত রাখছেন। এই দু’টি স্তর একত্র করে দাম বাড়ানো হলে তামাক ব্যবহার কমবে, ৩ লাখ ৭২ হাজারের বেশি তরুণের ধূমপান শুরু করার প্রবণতা হ্রাস পাবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের কর্মসূচি পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) শেখ মোমেনা মনি, অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী, ডা. অরুনা সরকার প্রমুখ।
তামাকে অমনোযোগীর কারণে বছরে ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার
স্টাফ রিপোর্টার
১১ এপ্রিল (শনিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
