সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ব্যবহৃত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে নিহত প্রবাসী শাহ আলম ভূঁইয়ার (৪৫) মরদেহ কুমিল্লায় দাফন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সাহেবাবাদ ইউনিয়নের জিরুইন গ্রামে এসে পৌঁছায় মরদেহ। স্থানীয় জিরুইন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। নিহত আলম জিরুইন গ্রামের প্রয়াত হানিফ ভূঁইয়ার ছেলে। গত ১লা এপ্রিল সকালে আরব আমিরাতে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তার স্ত্রী, দুই মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেট দিয়ে তার মরদেহ এসে পৌঁছায়। মরদেহ গ্রহণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। এসময় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে লাশ সাহেবাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য জাকির হোসেনসহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেন প্রতিমন্ত্রী। এসময় তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে ৩৫ হাজার টাকার চেক এবং ইরান সংকটজনিত বিশেষ অনুদান হিসেবে ৫০ হাজার টাকা পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, শাহ আলম ভূঁইয়া ছিলেন বৈধ কর্মী।
এ কারণে তার পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে তিন লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে। তবে বীমা না থাকায় ১০ লাখ টাকার অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে না। জাতিসংঘের সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া শেষে এই সহায়তা দেয়া হবে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে এখন পর্যন্ত সাতজন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, নিহত সাতজনের মধ্যে এটি দেশে আনা পঞ্চম মরদেহ। একজনকে ঘটনাস্থলেই দাফন করা হয়েছে এবং আরেকজনের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলমান। জানা যায়, আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ ডিব্বা গোফ এলাকার একটি খামারে কাজ করতেন শাহ আলম ভূঁইয়া। গত ১লা এপ্রিল স্থানীয় সময় সকাল ৬টার দিকে আরেক সহকর্মীসহ হেঁটে কাজে যাচ্ছিলেন তিনি। শাহ আলম ছিলেন সামনে, ঠিক পেছনে প্রায় ১০ হাত দূরে ছিলেন ওই সহকর্মী। এসময় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধে ব্যবহৃত একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ শাহ আলমের ওপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহত শাহ আলমের চাচাতো ভাই হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ভেবেছিলাম আমিরাত সরকার বা তিনি যেখানে কাজ করতেন, সেখান থেকে ভালো কোনো সহায়তা করা হবে। কিন্তু এখনো এমন কিছু হয়নি। অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারসহ সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
