ম্যাচ অফিসিয়ালদের বহরেও ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার প্রতিদ্বন্দ্বিতা

ম্যাচ অফিসিয়ালদের বহরেও ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার প্রতিদ্বন্দ্বিতা

ফন্ট সাইজ:

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল নিয়ে হতে যাচ্ছে এবারের বিশ্বকাপ। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সামলাতে ম্যাচ অফিসিয়ালদের তালিকা প্রকাশ করেছে বিশ্ব ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ফিফা)। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর এই যৌথ আসরে ১০৪টি ম্যাচ পরিচালনার জন্য ১৭০ জন অভিজ্ঞ অফিসিয়ালকে চূড়ান্ত করেছে বিশ্ব ফুটবলের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা। শেষবার কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় এবার ৪১ জন বেশি অফিসিয়াল থাকছেন এই আসরে। মাঠের লড়াইয়ের মতো এখানেও টক্কর দিচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা।

আসন্ন বিশ্বকাপের রেফারিং প্যানেলে অনন্য নজির গড়তে যাচ্ছে দক্ষিণ আমেরিকার এই দুই পরাশক্তি। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো একটি বিশ্বকাপে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা থেকেই তিনজন করে প্রধান রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ব্রাজিলের প্রতিনিধিত্ব করবেন রাফায়েল ক্লস, উইল্টন সাম্পাইও এবং র‌্যামন আবাত্তি। এবং আর্জেন্টিনা থেকে আছেন ফাকুন্দো টেলো, ইয়ায়েল ফালকোন পেরেজ ও দারিও এরেরা। দু’টি দেশ থেকেই সবমিলিয়ে ৯ জন করে শীর্ষপর্যায়ের অফিসিয়াল অংশ হচ্ছেন এই মহাযজ্ঞের। ঘোষণা অনুযায়ী, মোট ৫২ জন রেফারি, ৮৮ জন সহকারী রেফারি ও ৩০ জন ভিডিও ম্যাচ অফিসিয়াল এবারের বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করবেন। সবমিলিয়ে ৫০টি সদস্য দেশ এবং ছয়টি মহাদেশের প্রতিনিধিত্ব থাকছে এই দলে। নারী রেফারিংয়ের অগ্রযাত্রায়ও যুক্ত হচ্ছে নতুন পালক। এবার মোট ছয়জন নারী অফিসিয়াল থাকছেন, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তোরি পেনসো এক বিশেষ রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন। তার সঙ্গে সহকারী হিসেবে থাকবেন ব্রুক মায়ো ও ক্যাথরিন নেসবিট। এই তিনজন মিলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ‘অল-ফিমেল’ বা সম্পূর্ণ নারী অন-ফিল্ড অফিসিয়েটিং দল হিসেবে ম্যাচ পরিচালনা করবেন। রেফারিদের তালিকাটি সাজানো হয়েছে বিশ্বের নামি সব টুর্নামেন্টের সফল অফিসিয়ালদের নিয়ে। গত বিশ্বকাপ ফাইনাল পরিচালনা করা পোল্যান্ডের শেমন মারচিনিয়াক যথারীতি থাকছেন এবারো। আরও আছেন ২০২৪ ইউরো ফাইনালের রেফারি ফ্রাসোয়া লেতেক্সিয়ে এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকা ফাইনালের রাফায়েল ক্লস। ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ থেকে মাইকেল ওলিভার ও অ্যান্থনি টেইলরসহ সাতজন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লীগ সকার (এমএলএস) থেকে ১১ জন অফিসিয়াল জায়গা পেয়েছেন এখানে। ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়ের লুইজি কলিনা জানান, গত তিন বছর ধরে কঠোর নজরদারির মাধ্যমে এই ‘এলিট’ দল বাছাই করা হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচিত রেফারিরা বিশ্বের সেরা। তিন বছর ধরে তাদের পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে, বিভিন্ন টুর্নামেন্টে তাদের পারফরম্যান্স নিয়মিতভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।’ এবারের আসরে রেফারিদের শরীরে থাকা বডি ক্যামেরা দর্শকদের রেফারির অভিজ্ঞতা সরাসরি দেখার সুযোগ করে দেবে। এ ছাড়া সেমি-অটোমেটেড অফসাইড এবং কানেক্টেড বল প্রযুক্তির ব্যবহার তো থাকছেই। টুর্নামেন্ট চলাকালীন মূল রেফারিরা থাকবেন মায়ামিতে এবং ভিডিও এসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) অফিসিয়ালদের কেন্দ্র হবে ডালাসে। নিখুঁত ও বিতর্কহীন এক বিশ্বকাপ উপহার দিতেই ফিফার এ নজিরবিহীন প্রস্তুতি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন