হামের উপসর্গ নিয়ে এক কক্ষে চিকিৎসা নিচ্ছে ৫৫ শিশু

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল

হামের উপসর্গ নিয়ে এক কক্ষে চিকিৎসা নিচ্ছে ৫৫ শিশু

ফন্ট সাইজ:

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে একটি কক্ষেই হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে ৫৫ শিশু। তাদের প্রত্যেকের সঙ্গেই কমপক্ষে একজন করে অভিভাবক রয়েছেন। তাই ঘরে যেন পা-ফেলার জায়গাটুকুও নেই। নেই পর্যাপ্ত আলো ও বাতাসের ব্যবস্থা। পরিষ্কার-পরিছন্নতার অভাবও স্পষ্ট। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে হামের আইসোলেশন কর্নারের চিত্র এমনই। রোগীর স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, এক চরম মানবিক সংকটের মধ্যে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে তাদের। শুক্রবার সকালে হাসপাতালের আইসোলেশন কর্নারে ভর্তি ছিল ৫৫ শিশু। এরমধ্যে পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টাতেই ভর্তি হয়েছে ১৪ শিশু।

নতুন যারা ভর্তি হচ্ছে তারা ঘরে জায়গা না পেয়ে বিছানা পাতছেন বারান্দা বা করিডোরে। এমনই একজন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার শাহজাহানপুরের আব্দুল হাইয়ুল। তিনি বলেন, গতকাল রাত ১০টার দিকে আমি বাচ্চাকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছি। জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়ার পর ভর্তি কাগজ দিয়ে আমাদের পাঠিয়ে দিলেন ওয়ার্ডে। এখানে এসে দেখি একটু জায়গাও ফাঁকা নেই। অনেকজনকেই বলেছি ভাই বা আপা আপনাদের পাশে একটু জায়গা দেন। কিন্তু কোনোভাবেই ঘরের ভেতরে জায়গা পাইনি। বাধ্য হয়ে বাইরে বেলকনিতে বাচ্চাকে নিয়ে আছি। রাতে অনেক ঠাণ্ডা বাতাস লাগে। দুর্গন্ধও পাওয়া যাচ্ছে। এই অবস্থাতেই আছি বাচ্চাকে নিয়ে। ১১ মাসের ভাতিজাকে নিয়ে হাসপাতালের আইসোলেশন কর্র্নারে আছেন মিস্ত্রিপাড়ার সালমা খাতুন। তিনি বলেন, এত রোগী আর রোগীর লোকজনের কারণে ওয়ার্ডে পা ফেলার জায়গা নেই। এখানে আমরা যারা আছি একটা মানবিক সংকটের মধ্যে আছি। এখানে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই। ফ্যানের ব্যবস্থা নেই। বিদ্যুৎ চলে গেলে অবর্ণনীয় কষ্ট পেতে হয় শিশু ও শিশুর স্বজনদের। এখানে শিশুরা কয়েকদিন থাকলে সুস্থতার পরিবর্তে আরও অসুস্থ হয়ে যাবে। সম্প্রতি হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল। ওই সময় তিনি বলেন, একটি কক্ষের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি সব শিশুকে রাখা হচ্ছে। প্রতিটি শিশুর সঙ্গে একজন করে অভিভাবক থাকছেন। আইসোলেসন কর্নারে থাকা রোগীরা আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় আইসোলেশন কর্নারের জন্য আরও একটি কক্ষ বাড়ানোর জন্য বলেছি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন-আইসোলেশন কর্র্নারের জন্য আলাদা কোনো জায়গা নেই হাসপাতালে। কিডনি ডায়ালাইসিসের জন্য নির্ধারিত ওয়ার্ডটি আইসোলেশন কর্নার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যেহেতু এটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষ তাই এখানে প্রাকৃতিক আলো-বাতাসের অপর্যাপ্ততা আছে। মার্চ ও এপ্রিলের ১০ তারিখ পর্যন্ত আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিয়েছে ৫৩৩ শিশু। ওই ওয়ার্ডে একদিনে সর্বোচ্চ ৭৭ শিশু ভর্তি ছিল। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, যখন রোগী কম ছিল, তখনই এই আইসোলেশন কর্র্নার চালু হয়। আগে ওই কর্নারে বেড দেয়া ছিল। কিন্তু রোগী বাড়তে থাকলে বেডগুলো সরিয়ে নেয়া হয়। আমরা কক্ষটির সর্বোচ্চ ব্যবহারের চেষ্টা করছি। তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে আর কোনো খালি জায়গা নেই, যেখানে আইসোলেশন ওয়ার্ড করা যেতে পারে। তাই আমরা ওই একটি কক্ষেই রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিচ্ছি। পাশাপাশি আমাদের চিকিৎসকরা চেষ্টা করছেন যাতে শিশুরা দ্রুত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন