রূপগঞ্জের পূর্বাচলে একটি রেস্টুরেন্ট নির্মাণকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবির জেরে এক ব্যবসায়ী ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করা হয়েছে অন্তত ছয়জনকে। মামলা করার পরও এখন অভিযুক্তদের ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ভুক্তভোগী পরিবার- এমন অভিযোগ তাদের।
ভুক্তভোগীরা জানান, পূর্বাচলের ১১ নম্বর সেক্টর এলাকায় মো. আতাবুর রহমান, হাবিবুর রহমান সহ কয়েকটি আদিবাসী পরিবার দীর্ঘদিন ধরে রাজউকের অধীন জমিতে ছোট ছোট দোকান, পিঠা, চা-নাস্তার স্টল ও রেস্টুরেন্ট চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। সম্প্রতি সেখানে নতুন একটি রেস্টুরেন্ট নির্মাণের কাজ শুরু করলে স্থানীয় সোহেল রানা, মোশারফ, মোমেন, আরমান, মনির ভূঁইয়া ও সাজিদসহ ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল সেখানে এসে কাজে বাধা দেয়। এ সময় তারা মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হলে দুইপক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সোহেল রানা গ্রুপ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে ইউনিয়ন কৃষক দলের সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান, তার ছেলে ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রিফাত হোসেন, সাহিবুর রহমান, আতাবুর রহমান, ফাহাদ ও হৃদয় গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে সাহিবুর রহমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। হামলার সময় তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয় বলে জানান স্বজনরা। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঘটনার পর রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হলেও অভিযুক্তরা মামলা তুলে নিতে তাদেরকে বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দিচ্ছে। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে পুরো পরিবার। স্থানীয়রা বলেন, এলাকায় প্রায়ই চাঁদাবাজি ও দখলকে কেন্দ্র করে এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। তারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এদিকে রূপগঞ্জ থানার পুলিশ জানায়, হামলার ঘটনায় থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
