বগুড়া ও শেরপুরের নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ জামায়াতের

বগুড়া ও শেরপুরের নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ জামায়াতের

ফন্ট সাইজ:

বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন ও শেরপুর-৩ আসনে স্থগিত নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ এনেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জাল ভোট, এজেন্টদের বের করে দেয়া, সকালেই ফলাফল শিটে স্বাক্ষর নিয়ে নেয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে দলটি। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

গতকাল দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। বলেন, প্রশাসনকে অনেক ক্ষেত্রে অসহায় মনে হচ্ছে এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে নির্দেশিত হয়ে কাজ করছে। একটি বড় রাজনৈতিক দল এখন ক্ষমতায়, তাদের অধীনে প্রথম দুটো নির্বাচনের এই যদি চিত্র হয়, সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ আরও যেসব নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচনে আমরা কি করে ভোটারদের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন আশা করতে পারি? তিনি বলেন, সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে অনিয়মের তথ্য আসছে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে কিছু কেন্দ্রে ভোট শুরুর আগেই প্রিজাইডিং অফিসাররা এজেন্টদের কাছ থেকে ফলাফলের শিটে স্বাক্ষর নিয়েছেন।

পরওয়ার বলেন, ভোটগ্রহণ ও গণনা শেষ হওয়ার পর ফলাফলের শিটে এজেন্টদের স্বাক্ষর করার কথা। কিন্তু সকালেই স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে, যা গুরুতর অনিয়ম। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়া হচ্ছে এবং তাদের এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। শেরপুরের কয়েকটি কেন্দ্রে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের এই নেতা বলেন, কিছু স্থানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকরা কেন্দ্রে ঢুকে হামলা চালিয়েছে এবং ভোটারদের, বিশেষ করে নারী ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়া হয়েছে। প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। যেসব কেন্দ্রে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে, সেগুলোর ভোটগ্রহণ স্থগিত করে পুনরায় ভোটের ব্যবস্থা করতে হবে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং ও রিটার্নিং অফিসারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানান তিনি।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, চলমান ভোটগ্রহণ অব্যাহত থাকলে ভোটারদের প্রকৃত মতামত প্রতিফলিত হবে না এবং জনগণ এমন ফলাফল মেনে নেবে না। আমরা নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাছুম, মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি নাজিমউদ্দিন মোল্লা প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, বৃস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান লিখেন, দলীয় সরকারের অধীনে বগুড়া-৬ এবং শেরপুর-৩ আসনে দু’টি উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন কী হতে পারে, তার বীভৎস রূপ ইতিমধ্যেই জাতির সামনে চলে এসেছে।

তিনি লিখেছেন, জাতীয় সংসদ একটি পবিত্র আমানতের জায়গা। সেই জায়গায় যারা আসবেন, তারা যদি জনগণের রায়কে গায়ের জোরে পাল্টে দিয়ে আসেন, তাহলে তাদের দ্বারা দেশ ও জাতির ক্ষতি ছাড়া লাভ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন