টুখেলের পেপ-টক কেইনের রেকর্ড

টুখেলের পেপ-টক কেইনের রেকর্ড

ফন্ট সাইজ:

ইংল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচটিকে ভাবা হচ্ছিল গ্রুপ-পর্বের সবচেয়ে হাই-ভোল্টেজ দ্বৈরথ। হলোও তাই। ডালাস স্টেডিয়ামে রোমাঞ্চকর এক লড়াইয়ে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে মিশন শুরু করলো ইংল্যান্ড। ম্যাচের প্রথমার্ধে ক্রোয়াটদের একের পর এক আক্রমণে কোণঠাসা হয়ে পড়ে থ্রি-লায়নরা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দেখা যায় ভিন্ন এক ইংল্যান্ডকে। ম্যাচ শেষে ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইন জানান, বিরতিতে ড্রেসিংরুমে থমাস টুখেলের এক পেপ-টকই পাল্টে দেয় দলের চেহারা।

টুখেলের সেই অনুপ্রেরণাদায়ী বার্তার কথা উল্লেখ করে কেইন বলেন, “কোচ আমাদের বলেন সব চাপ ঝেড়ে ফেলে শান্ত হতে এবং মাঠে নিজেদের খেলাটা খেলতে। তিনি বলেছিলেন, ‘খারাপ আর কী হতে পারে? বিশ্বকে দেখিয়ে দাও আমরা আসলে কী হতে পারি!’ অধিনায়কের মতে, কোচের এ কথাই তাদের তাতিয়ে দেয়। কেইন বলেন, ‘দ্বিতীয়ার্ধে আমরা ফুল গ্যাসে খেলি এবং ওরা আমাদের গতির সঙ্গে টিকতেই পারেনি। প্রতিটা ম্যাচেই আমাদের এই ছন্দ ধরে রাখতে হবে।’

ম্যাচে জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন কেইন। আর এই জোড়া গোলের পথেই তিনি ছুঁয়েছেন ইংলিশ কিংবদন্তি গ্যারি লিনেকারকে। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের জার্সিতে লিনেকার ও কেইন উভয়েরই গোল এখন সমান ১০টি। শুধু গোলসংখ্যায় নয়, দুজনেই বিশ্বকাপে ১০টি গোল করতে ম্যাচ খেলেছেন সমান ১২টি!

ম্যাচে দ্বাদশ মিনিটে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করে আরেকটি অনন্য রেকর্ড নিজের করে নেন বায়ার্ন মিউনিখ স্ট্রাইকার। টাইব্রেকার বাদে বিশ্বকাপে পেনাল্টি থেকে এখন এককভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা হ্যারি কেইন। বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি ও কেইন সর্বোচ্চ ৬টি করে পেনাল্টি শট নিয়েছেন। মেসির দু’টি পেনাল্টি মিস হলেও, কেইন ৬টির মধ্যে ৫টিতেই গোল করেছেন।

তবে কেইনের এই প্রথম পেনাল্টি শটটি ঠেকিয়ে দেন ক্রোয়াট কিপার দমিনিক লিভাকোভিচ। কিন্তু শট নেয়ার আগেই লিভাকোভিচ গোললাইন ছেড়ে বেরিয়ে আসায় ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) পুনরায় পেনাল্টির নির্দেশ দেয়। দ্বিতীয় সুযোগে অবশ্য কেইন কোনো ভুল করেননি।

নিজের এই কৌশল নিয়ে কেইন বলেন, ‘ভিডিও ক্লিপ দেখে আমি জানতাম ও (লিভাকোভিচ) একটু আগেই নড়ে চড়ে বসে। তাই আমি শট নেয়ার আগে একটু থমকে যাই। আমি ৮০ ভাগ নিশ্চিত ছিলাম ও লাইন ছেড়ে বের হবে। এই কারণেই আমরা আগে থেকে রিসার্চ করি।’

দলের তরুণ তুর্কিদের প্রশংসা করে অধিনায়ক হ্যারি কেইন আরও বলেন, ‘আমাদের দলে একঝাঁক পরিপক্ব তরুণ আর দারুণ সব লিডার আছে। প্রথমার্ধে ক্রোয়াটদের গতিতে কিছুটা এলোমেলো হলেও ড্রেসিংরুমে কেউ শান্ত বা স্থিরতা হারায়নি। সবাই জানতো, আমাদের কোন পর্যায়ে পৌঁছাতে হবে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটাই আমাদের ম্যাচ জয়ের মূল ভিত্তি গড়ে দিয়েছে।’ কেইনের মতে, প্রথম ম্যাচেই ক্রোয়েশিয়ার মতো কঠিন প্রতিপক্ষকে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করাটা পুরো দলের আত্মবিশ্বাস আকাশচুম্বী করে দিয়েছে।

এদিকে প্রথম ম্যাচে দারুণ জয় পেলেও ইংলিশ শিবিরে কিছুটা চিন্তার ভাঁজ ডেকলান রাইসের চোট নিয়ে। দ্বিতীয়ার্ধে পিঠ ও হ্যামস্ট্রিংয়ে অস্বস্তি বোধ করায় আর্সেনালের এই মিডফিল্ডারকে তুলে নেন টুখেল। ম্যাচ শেষে টুখেল বলেন, ‘ও অস্বস্তি বোধ করছিল। আমি কোনো ঝুঁকি নিতে চাইনি। ওকে সুরক্ষিত রাখাই ছিল মূল লক্ষ্য। তবে ম্যাচ শেষে ডেকলান আমাকে আশ্বস্ত করে বলেছে যে সব ঠিক আছে।’

ম্যাচের প্রথমার্ধে দলের স্নায়ুচাপ ও ভুলভ্রান্তি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন ইংলিশ বস। তিনি বলেন, ‘মাঝে মাঝে নিখুঁত খেলতে গিয়ে ছেলেরা অতিরিক্ত ভেবে ফেলে। প্রথমার্ধে আমরা অতিরিক্ত ব্যাকপাস দিয়ে ফেলি। তবে বিরতিতে আমি তাদের শান্ত হতে বলি। আমি তাদের বলেছি, রেজাল্ট যা-ই হোক, গত ১৭ দিনে তাদের নিয়ে আমার ধারণা বদলাবে না। আমি চেয়েছিলাম তারা যেন সাহসী ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে।’

মাঝমাঠের প্রাণ জুড বেলিংহামও কোচের এই শান্ত মেজাজের প্রশংসা করে বলেন, ‘ড্রেসিংরুমে কোনো বড় নাটক বা চিৎকার-চেঁচামেচি হয়নি। দলটার যা প্রয়োজন ছিল, কোচ ঠিক সেটিই করেছেন।’ কেইনের পেনাল্টি টেকনিকের প্রশংসা করে সাবেক ডিফেন্ডার কনর কোডি বলেন, ‘ও পেনাল্টিতে বড্ড চতুর। কিপারদের নিয়ে ওর এই কাটাছেঁড়া সত্যিই অসাধারণ।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন