সিলেটে যে শর্তে অটোরিকশা ছেড়ে দিচ্ছে নগর পুলিশ

ফন্ট সাইজ:

সিলেটে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মালিকদের প্রতি সদয় হচ্ছে পুলিশ। এ পর্যন্ত অভিযানে আটক করা ৩ হাজার ৯১টি অটোরিকশা প্রকৃত মালিকদের কাছে ফেরত দেয়া হচ্ছে। তবে শর্ত দিয়েছে পুলিশ। আটক কিংবা মালিকের হেফাজতে থাকা কোনো অটোরিকশাই নগরে চলাচল করতে পারবে না। যদি অন্য কোথাও চলে তাহলে ওই রিকশা নগরের ভেতরে কোনো জায়গাই চলতে পারবে না। এদিকে, মূল সড়কে না চলাচল করে এখনো নগরের বিভিন্ন গলিপথে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলছে। একইসঙ্গে চলাচল করছে টমটমও।

এসব অটোরিকশা ও টমটম প্রতিদিনই চুষে নিচ্ছে কয়েকশ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎও। কারণ এসব অটোরিকশা ও টমটম বিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জ দিয়ে চলাচল করে। এতে করে এসব যানবাহন চার্জ দেয়ায় বিদ্যুতের ঘাটতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা। বর্তমানে জ্বালানি সংকটের জন্য বিদ্যুতের সরবরাহ কম হচ্ছে। অটোরিকশা ও টমটমে বিদ্যুতের ব্যবহার থাকার কারণে ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। এদিকে, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সিদ্ধান্ত হয়। কোনো ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নগরে সড়কে নামানো যাবে না, এতে সবাই একমত হন। বুধবার মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় আরও জানানো হয়, মহানগর এলাকায় অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশার দোকান, ইজিবাইক বিক্রির কেন্দ্র এবং অবৈধ চার্জিং পয়েন্টের বিরুদ্ধে এসএমপি’র অভিযান আগের মতোই চলছে এবং চলবে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) মো. মঞ্জুরুল আলম জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত অভিযানে তিন হাজারের উপর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা আটক করা হয়েছে। এ রিকশাগুলো পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার প্রকৃত মালিকরা কাগজপত্র প্রদর্শন করে এগুলো নিয়ে যেতে পারবেন। তবে নগরের সড়কে চলতে পারবে না।

পুলিশ জানিয়েছে, গত বছরের অক্টোবরে নগর পুলিশ অটোরিকশা চলাচলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অটোরিকশা চালানো হলে অ্যাকশনে যায় পুলিশ। ওই সময় অভিযানে ব্যাপক হারে অটোরিকশা আটক করা হয়। এখনো এই অভিযান চলছে। বুধবার বৈঠকের পর নগর পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে- এসএমপি’র চলমান অভিযানে আটককৃত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এবং ইজিবাইকের মালিকদের দুঃখ-দুর্দশা ও মানবিক দিক বিবেচনা করে, উক্ত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এবং ইজিবাইকগুলো তাদের প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এ ছাড়া, সিলেট মেট্রোপলিটন এলাকায় অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশার দোকান, অবৈধ ইজিবাইকের দোকান, অবৈধ চার্জিং পয়েন্টের বিরুদ্ধে এসএমপি’র চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মোহাম্মদ এনামুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সদর ও প্রশাসন) মাসুদ রানা পিপিএম-সেবা, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) রিয়াজুল কবির পিএসসি, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক অতিরিক্ত দায়িত্বে সদর ও প্রশাসন) সুদীপ্ত রায়, উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) আফজাল হোসেন, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি, অতিরিক্ত দায়িত্বে ডিসি-ডিবি) সাহাদত হোসেন। রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে সিলেট মহানগর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।

Ahmed

২ মাস আগে

Rickshaw owners will go to village and they will charge their Rickshaw and destroy our electricity.

Bashir Ahmed

২ মাস আগে

ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মন্তব্য করুন