মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে জ্বালানি তেলের দুইটি বড় চালান চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। বুধবার রাতে মালয়েশিয়া থেকে ২৬ হাজার টন অকটেন এবং ২৫ হাজার টন ফার্নেস অয়েলসহ মোট ৫১ হাজার টন জ্বালানি তেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছে দু’টি ফুয়েল ট্যাংকার। বৃহস্পতিবার দুপুরে বন্দরের ৫ নম্বর ডলফিন জেটিতে মালয়েশিয়া থেকে আসা এমটি সেন্ট্রাল স্টার থেকে পরিশোধিত অকটেন খালাসের কার্যক্রম চলছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, অকটেনের এই চালান আসায় দেশে চলমান সংকট কিছুটা হলেও কমবে।
জাহাজ থেকে অকটেন খালাস ও বিতরণের দায়িত্বে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহীরুল হাসান জানান, দেশে বর্তমানে অকটেনের তীব্র সংকট নেই এবং নতুন এই চালান সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল করবে। আগামী দু’দিনের মধ্যে খালাস কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
বিপিসি’র তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মোট জ্বালানি সরবরাহের মধ্যে অকটেনের অংশ ছিল প্রায় ৬ শতাংশ। এ সময়ে দেশে মোট ৪ লাখ ১৫ হাজার টন অকটেন বিক্রি হয়েছে, যার প্রায় অর্ধেক স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এবং বাকিটা আমদানি করা। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৬ই এপ্রিল পর্যন্ত দেশে অকটেনের মজুত ছিল ১০ হাজার ৫২৬ টন। মার্চে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ২২২ টন অকটেন বিক্রি হলেও সরবরাহ চাপের কারণে এপ্রিলে তা কমে দৈনিক ১ হাজার ১১৪ টনে নেমে আসে।
যুদ্ধ পরিস্থিতির পর মার্চে ডিজেল, জেট ফুয়েল ও ফার্নেস তেল নিয়ে ১০টি জাহাজ দেশে পৌঁছালেও নির্ধারিত আরও সাতটি জাহাজ আসতে পারেনি। এ ছাড়া গত মাসে অকটেন আমদানির কোনো নির্ধারিত সূচি ছিল না। বিপিসি’র তথ্য অনুযায়ী, চলতি এপ্রিলে দেশে ডিজেলের চাহিদা প্রায় ৪ লাখ টন। এ মাসে আরও প্রায় সোয়া ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। বুধবার অকটেনের পাশাপাশি মালয়েশিয়া থেকে ৩৪ হাজার টন ডিজেল এবং ভারত, চীন ও মালয়েশিয়া থেকে পৃথক তিনটি জাহাজে করে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার টন এলপিজি বন্দরে পৌঁছেছে।
বিপিসি’র সহকারী ব্যবস্থাপক (গণসংযোগ) ফারজিন হাসান মৌমিতা বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে অকটেনের জাহাজটি বন্দরের পাইলটের তত্ত্বাবধানে এবং শক্তিশালী টাগ বোটের সহায়তায় বন্দরের ৫ নম্বর ডলফিন জেটিতে আনা হয়। এ ছাড়া ‘এমটি ইস্টার্ন কুইন্স’ নামে আরেকটি জাহাজ মালয়েশিয়া থেকে ২৫ হাজার টন ফার্নেস অয়েল নিয়ে বুধবার রাতে বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়।
জাহাজটি এখন বন্দরের চার্লি অ্যাংকরেজে রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের ৫ নম্বর ডলফিন জেটিতে এমটি সেন্ট্রাল স্টার থেকে পরিশোধিত অকটেন খালাসের কার্যক্রম চলছে। মালয়েশিয়া থেকে আসা জাহাজটিতে ২৬ হাজার টন অকটেন রয়েছে। দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জ্বালানিবাহী জাহাজের বার্থিংকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে বেশ কিছু জাহাজের তেল, গ্যাস খালাস হয়েছে। পাইপলাইনে আরও বেশ কিছু জাহাজ রয়েছে।
উল্লেখ্য, অকটেন মূলত মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মাইক্রোবাসে ব্যবহৃত হয়। গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল আগ্রাসন শুরু করে। এরপর ইরান পাল্টা হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এরই জেরে দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে অকটেনের ঘাটতি দেখা দেয়। অনেক স্থানে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও জ্বালানি পাওয়া যায়নি এবং ‘অকটেন নেই’ সাইনবোর্ড টাঙাতে দেখা গেছে। এক মাস পেরোলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। নতুন এই জাহাজের আগমনে সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করছেন বিপিসি’র কর্মকর্তারা।
