নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) ৫৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপিত হয়েছে। এ সময় প্রতিবছর একটি করে বিসিএস পরীক্ষা আয়োজনের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। বুধবার সকালে কমিশন ভবন প্রাঙ্গণে স্থাপিত মৃত্যুঞ্জয়ী স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে বেলুন উড়িয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় পিএসসি সচিবালয়ের মাল্টিপারপাস হলে কমিশনের সাম্প্রতিক অর্জন নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক। প্রধান অতিথি মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, ৮ই এপ্রিল শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা দিবস নয়, এটি দেশের প্রশাসনিক মেধা ও নেতৃত্ব গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সরকারের ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কারের অংশ হিসেবে শক্তিশালী পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে। একইসঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রস্তাবিত তিনটি কমিশনের পরিবর্তে একটি কমিশন বহাল রাখার সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, প্রতি বিসিএস পরীক্ষায় প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ পরীক্ষার্থী অংশ নেয়, যা বিশ্বের অন্যতম বড় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা।
এই প্রক্রিয়া এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করা প্রয়োজন বলে জোর দেন তিনি। নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এতে মেধাবী তরুণদের দ্রুত রাষ্ট্রীয় সেবায় যুক্ত করা সম্ভব হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পেশাদারিত্ব ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে পিএসসি ভবিষ্যতে আরও আধুনিক, দক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান কমিশনের দায়িত্বকালীন সময়ে কোনো প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক বলেন, পিএসসি’র গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ ও অর্জন প্রশংসনীয়। তিনি প্রশাসন ক্যাডারের পাশাপাশি টেকনিক্যাল ও প্রফেশনাল ক্যাডারে মেধাবী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে পিএসসি’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম বলেন, একটি সংকটময় সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করে কমিশন জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। প্রিলিমিনারি থেকে চূড়ান্ত ফলাফল পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এক বছরে একটি বিসিএস সম্পন্নের লক্ষ্যে রোডম্যাপ নিয়ে কাজ চলছে। তবে এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বাধীনতা প্রয়োজন। ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার সময় কমানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
পিএসসি চেয়ারম্যান সবার প্রতি আহ্বান জানান- এমন একটি প্রশাসন গড়ে তুলতে, যেখানে মেধা হবে একমাত্র মানদণ্ড, ন্যায় হবে প্রতিটি সিদ্ধান্তের ভিত্তি এবং জনগণের সেবাই হবে সর্বোচ্চ অঙ্গীকার।
আলোচনা সভায় বক্তারা আরও বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার উদ্যোগ ইতিমধ্যে নেয়া হয়েছে। অনলাইনে আবেদন, পরীক্ষার ব্যবস্থাপনা এবং ফলাফল প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভরতা বাড়ানো হলে সময় ও ব্যয়- দুটিই কমানো সম্ভব হবে। এ ছাড়া গ্রাম ও শহরের প্রার্থীদের মধ্যে সুযোগের বৈষম্য কমাতে পরীক্ষাকেন্দ্র বাড়ানো এবং তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তা জোরদারের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পিএসসি সচিব ড. মো. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া। এতে কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
পিএসসি’র ৫৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন
বিসিএস এক বছরের মধ্যে সম্পন্নে জোর
স্টাফ রিপোর্টার
৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
