আলোচিত আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ

ফন্ট সাইজ:

রংপুরে জুলাই ২০২৪-এর আন্দোলনের সময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ। গত ২৮শে জানুয়ারি মামলাটিতে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে। পরে গত ৫ই মার্চ বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায় ঘোষণার এ দিন ধার্য করেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও মামলার তদন্তের সঙ্গে সম্পৃক্ত এস এম মইনুল করিম মানবজমিনকে বলেন, এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ২৫ জন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন। সাক্ষীদের মধ্যে বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ও আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেনও রয়েছেন। আমরা সাক্ষী ও পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেছি। প্রসিকিউশন আশা করছে- এসব অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিরা তাদের অপরাধ অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি পাবেন। এই মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদ, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার মো. মনিরুজ্জামানসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, প্ররোচনা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
সাবেক ভিসি ও আরএমপি কমিশনার ছাড়াও আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- আরএমপি’র উপ-কমিশনার মো. আবু মারুফ হোসেন, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. শাহ নুর আলম পাটওয়ারী (যিনি পরে পুলিশ সুপার পদে উন্নীত হন), সহকারী কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান (কোতোয়ালি জোন), তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রকিবুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও উপ-পরিদর্শক বিভূতি ভূষণ রায়, এবং আওয়ামী লীগপন্থি স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের নেতা সারওয়ার হোসেন চন্দন। এদের মধ্যে সাবেক ভিসিসহ ২৪ জন আসামি বর্তমানে পলাতক। অন্যদিকে কারাগারে থাকা ৬ আসামি হলেন- রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রফিউল হাসান, রেজিস্ট্রার দপ্তরের সাবেক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৫ই আগস্ট ট্রাইব্যুনাল ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে, যেখানে বলা হয় নিরস্ত্র অবস্থায় থাকা সাঈদকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তারা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন বা সহায়তা ও প্ররোচনা দিয়েছিলেন। একই বছরের ৩০শে জুন রাষ্ট্রপক্ষ আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র ট্রাইব্যুনালে জমা দেয়। অতঃপর, ২৭শে আগস্ট আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেনের সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে বিচারকাজ শুরু হয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ২৫ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে রংপুরে ছাত্র আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৬ই জুলাই আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। আবু সাঈদের হাত প্রসারিত করে প্রতিবাদী ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার ভিডিওটি ভাইরাল হয়, যা তাকে প্রতিরোধের প্রতীকে পরিণত করে। এই হত্যাকাণ্ডকে ব্যাপকভাবে একটি মোড় ঘোরানো ঘটনা হিসেবে দেখা হয়, যা গণ-অভ্যুত্থানকে তীব্রতর করে এবং শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনে ভূমিকা রাখে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন