এলপি গ্যাসের অস্বাভাবিক দামে দিশাহারা রংপুরবাসী

আইন-প্রশাসন নীরব

এলপি গ্যাসের অস্বাভাবিক দামে দিশাহারা রংপুরবাসী

ফন্ট সাইজ:

রংপুরে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছে জনজীবন। সরকারিভাবে নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৭২৮ টাকা থাকলেও বিক্রেতারা বিক্রি করছেন ২ হাজার ১শ’ থেকে ২ হাজার ৩শ’ টাকা প্রতি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার। বিক্রেতাদের কাছে এত বেশি দামের কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন-বেশি দামে কেনা, নিলে নেন না নিলে যান। এমন বক্তব্য প্রায় সব বিক্রেতাদের। যেন সিন্ডিকেটের স্বর্গরাজ্য এখন রংপুর। অথচ প্রশাসন থাকলেও তাদের কোনো ভূমিকা নেই। অবস্থা দেখে ক্রেতা শাহাবুদ্দিন বলেন- মনে হয় দেশে কোনো আইন বা প্রশাসন নেই। এ সময় ক্রেতা লিটন বলেন- সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে ব্যবসায়ীদের এ কারসাজি। তবে প্রশাসন কঠিন ভূমিকা রাখলে এ অবস্থা সৃষ্টি হতো না। তিনি বলেন, আইন প্রশাসনকে শক্ত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তা না হলে বিপাকে যেমন পড়বে গ্রাহকরা, তেমনিভাবে সরকারও পড়বে বেকায়দায়। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ঘোষিত নতুন দর অনুযায়ী, ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি কেজি এলপিজি’র দাম বেড়েছে ৩২ টাকা ৩০ পয়সা। ফলে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজি সিলিন্ডারের মূল্য ১,৩৪১ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭২৮ টাকায়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, রংপুরে পাইপলাইনের গ্যাস না থাকায় এলপিজিই একমাত্র ভরসা। ফলে এর দাম বৃদ্ধি সরাসরি জীবনযাত্রার ব্যয়ে প্রভাব ফেলছে। অনেক পরিবার এখন গ্যাসের ব্যবহার কমানো বা বিকল্প জ্বালানি খোঁজার চেষ্টা করছে। এভাবে মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির জীবনযাত্রার মান আরও অবনতির দিকে যাবে। তারা দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ ও ভর্তুকির দাবি জানিয়েছেন, যাতে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে এলপিজি’র দাম রাখা যায়। বিইআরসি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সমন্বয় করা হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। শাপলা চত্বরের এক খুচরা বিক্রেতা বলেন-পাইকারি পর্যায়েই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এজন্য খুচরা বাজারেও চাপ পড়ছে, এতে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রায়ই বিতর্ক হচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় কথা বলে জানা গেছে, এই হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধিকে ‘অস্বাভাবিক’ ও ‘অমানবিক’ হিসেবে দেখছেন ভোক্তারা। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে গ্যাসের দাম বাড়ায় মাসিক ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। নগরীর ইঞ্জিনিয়ারপাড়া এলাকার নাজমা বেগম বলেন-সংসারের খরচ চালাতে এমনিতেই হিমশিম খাচ্ছি।
এক লাফে প্রায় চারশ টাকা বাড়ায় এখন টিকে থাকাই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। গৃহিণী শাবনাজ বেগম বলেন-স্বামী যে বেতন পায় তা দিয়ে টানাটানি করে পরিবার চালাতে হয়। এখন আবার এলপিজি’র গ্যাসের অস্বাভাবিক দাম বেড়ে যাওয়ায় আমাদের অর্থসংকটে পড়তে হচ্ছে। রেস্তোরাঁ মালিক আব্দুস সাত্তার ও রাহুল আহমেদ জানান, তাদের হোটেলে মাসে কয়েকটা সিলিন্ডার লাগে। তারা বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ায় খাবারের দাম না বাড়িয়ে উপায় নেই, কিন্তু তাতে ক্রেতা কমে যাবে। বিকন মোড় চাকরিজীবী আসাদুজ্জামান আরমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন-বেতন বাড়ে না, কিন্তু খরচ বাড়তেই থাকে। ফেব্রুয়ারিতে সামান্য কমালেও এখন তার চেয়ে চেয়ে অনেক বেশি বেড়ে গেছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন