দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জন সীমান্তের শূন্য রেখায় দু’দিন ধরে মানবেতর অবস্থানে রয়েছে। প্রখর রৌদ্র ও ভ্যাপসা গরমে শিশু সন্তানদের নিয়ে বাবা-মা’রা পাটক্ষেতের মাঝে চরম অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। এ ঘটনায় শনিবার দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই তা শেষ হয়েছে। ফলে সীমান্তে অবস্থান করা ৩ পরিবারের সদস্যরা কূল-কিনারাহীন হয়ে পড়েছেন।
পুশইনচেষ্টার ঘটনায় শনিবার সকাল ৯.৩০টায় দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাতুয়া সীমান্তের ১৫০/৩-এস সীমান্ত পিলার সংলগ্ন নোম্যান্স ল্যান্ডে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পতাকা বৈঠকে বিএসএফের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার করিমপুর রানীনগর বিএসএফ ক্যাম্পের কমান্ডার এসি সুনীল কুমার যাদব এবং বিজিবি’র পক্ষে নেতৃত্ব দেন কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) এর সহকারী পরিচালক মো. নুরুল হুদা। সকাল ১০টা পর্যন্ত চলা পতাকা বৈঠকে বিএসএফের পক্ষ থেকে পুশইনের ঘটনা অস্বীকার করা হয় এবং সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করা শিশু ও নারী-পুরুষসহ ১২ জনের বিষয়ে অধিকতর তদন্ত ও যাচাই শেষে পরবর্তীতে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হবে বলে জানানো হয়।
বিজিবি সূত্র জানায়, পতাকা বৈঠকে বিএসএফ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের অভিযোগ অস্বীকার করেন। একইসঙ্গে শূন্যরেখায় অবস্থানরত ওই ১২ জনকে নিজেদের হেফাজতে ফিরিয়ে নিতেও অস্বীকৃতি জানায়। এ সময় বিজিবি প্রতিবাদ জানালে বিএসএফ বিষয়টি নিয়ে সময় চেয়ে তদন্ত করে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানাতে চায়। ফলে বিএসএফের পক্ষ থেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত শিশুসহ ১২ জনকে সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করতে হবে বলে জানানো হয়। এদিকে গতকালও সীমান্ত এলাকায় বিজিবি’র সঙ্গে স্থানীয় জনগণকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে। সীমান্তে বাড়ানো হয়েছে বিজিবি’র জনবল। এর আগে শুক্রবার ভোরে ১৪৯ সীমান্ত পিলার সংলগ্ন দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের চরবিলগাতুয়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে শিশু, নারী ও পুরুষসহ ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবি ও স্থানীয় জনসাধারণের প্রতিরোধ ও তৎপরতায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে ১২ জনকে ১৪৮/৩-এস সীমান্ত পিলার সংলগ্ন প্রাগপুর সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে পাঠিয়ে দিলে সেখানে তারা অবস্থান নেয়। বর্তমানে তারা সেখানেই রয়েছেন। তবে তারা নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি করেছেন।
বাংলাদেশি দাবি করা ৩ পরিবারের ১২ জনের মধ্যে রয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার বাথানপাড়া গ্রামের মৃত ওয়াসেদ আলীর ছেলে উজির আলী (৫০), তার স্ত্রী জয়নুর বেগম (৩৫), ছেলে শিহাদ (১৭), ইনজামুল (৮) এবং আড়াই বছরের শিশু সামাদ। এ ছাড়াও সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রফিকুল গাজীর পরিবারের ৩ সদস্য এবং খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আফরোজা খাতুনের পরিবারের ৪ সদস্য রয়েছেন। এদের ভারতের কেরালা রাজ্য থেকে আটক করা হয়। পরে বিএসএফ তাদের চরবিলগাতুয়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় বিলগাতুয়া সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বিএসএফ কুষ্টিয়া সীমান্ত দিয়ে পুশইনের বিষয়টি অস্বীকার করেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য সময় চেয়েছে। তবে সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
