জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ৭ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা ১১দলীয় জোটের

ফন্ট সাইজ:

জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে গণভোটের রায় কার্যকর না করার অভিযোগ তুলে আরও ৭ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট ‘১১ দলীয় ঐক্য’। গতকাল দুপুরে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয় সংলগ্ন আল ফালাহ্‌ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে ১১দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের পক্ষে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেন, সরকার জনগণের ম্যান্ডেটকে উপেক্ষা করছে এবং তা উপহাসে পরিণত করেছে। সংস্কার প্রশ্নে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছিল, তা এখন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার জন-আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে একদলীয় শাসনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং সরকারের সমালোচনা করলে গ্রেপ্তারের মতো কর্মকাণ্ড ঘটছে, যা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক। কর্মসূচি ঘোষণা করে মামুনুল হক বলেন, আগামী ৯ই এপ্রিল থেকে ১৫ই এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ করা হবে। রাজধানীর শাহবাগে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। এ ছাড়া ১১ই এপ্রিল সব মহানগরীতে ও ১২ই এপ্রিল সব জেলায় বিক্ষোভ এবং ১৩ই এপ্রিল রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়ে সংসদে কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় ‘১১ দলীয় ঐক্য’ ধারাবাহিক আন্দোলনের প্রস্তুতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এদিকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের আচরণই বিরোধী দলগুলোকে রাজপথের আন্দোলনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সামপ্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভূমিকা নিয়ে জাতি হতবাক ও বিস্মিত। মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, গণভোটের রায়ে বিএনপি’র ‘নোট অব ডিসেন্ট’ কার্যত অচল হয়ে গেছে এবং সংসদে একজন ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে সংবিধান নিয়ে নতুন করে সংকট তৈরি হচ্ছে। জ্বালানি সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সংসদে বিরোধী দলকে কথা বলতে দেয়া হয় না। একইসঙ্গে দিল্লির আগ্রাসনবিরোধী অবস্থান গ্রহণকারীদের ‘রাজাকার’ আখ্যা দেয়া হচ্ছে।
বক্তব্যের একপর্যায়ে বিএনপিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়ার আহ্বান জানান জামায়াতের এই নেতা। পুরো পরিস্থিতিতে ১১দলীয় জোটের নেতারা দাবি করেন, গণতান্ত্রিক অধিকার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান) প্রমুখ।




কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন