জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে দেয়া রায় জালিয়াতি এবং দুদকের করা ৫ মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত চেয়ে করা আবেদনের ওপর শুনানির জন্য আগামী ২৬শে এপ্রিল দিন নির্ধারণ করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। মঙ্গলবার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত এ আদেশ দেন। এদিন আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে জামিন শুনানি হবে।
এর আগে গত ৮ই মার্চ বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল মঞ্জুর করে ৪ মামলায় জামিন দেন। পরে ১১ই মার্চ দুদকের মামলায়ও জামিন পান তিনি। এদিন, আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনছুরুল হক চৌধুরী, সারা হোসেন ও সাঈদ আহমেদ রাজা এবং আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্যাহ আল মাহমুদ। অন্যদিকে, জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। তবে এর মধ্যে নিম্ন আদালতে আরও ২ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪শে জুলাই রাজধানীর ধানমণ্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের বিরুদ্ধে এ মামলা ছাড়াও আরও ৪টি মামলা হয়। একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে গত ২৭শে আগস্ট শাহবাগ থানায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীনের মামলা। ২৫শে আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় আরেকটি মামলা করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী ভূঁইয়া। একই অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় ২৫শে আগস্ট আরেকটি মামলা করেন নুরুল ইসলাম মোল্লা। এর আগে ৪ঠা আগস্ট প্লট জালিয়াতিতে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকও একটি মামলা করেছে। এসব মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন নামঞ্জুরের পর তিনি হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। পরে হাইকোর্ট ৫ মামলায় জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেন।
বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ: দেশের বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠনের চূড়ান্ত নির্দেশনা দিয়ে হাইকোর্টের ১৮৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। একইসঙ্গে রায়ে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধান সুপ্রিম কোর্টের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। গতকাল সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট দুই বিচারপতির স্বাক্ষরের পর সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে এই রায়টি প্রকাশ করা হয়। বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ১৮৫ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করেছেন। রায়ে সরকারকে নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষের প্রস্তাব অনুযায়ী বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জন্য একটি স্বাধীন ও পৃথক সচিবালয় আদেশের তারিখ হতে ৩ (তিন) মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। রায়ে অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাসংক্রান্ত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করেছেন হাইকোর্ট। ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে, বিচারকর্ম বিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগে দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি দান, ছুটি মঞ্জুরিসহ) ও শৃঙ্খলা বিধান সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত থাকবে। এর আগে গত বছরের ২রা সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় ৩ মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়ে রায় দেন হাইকোর্ট।
আইনজীবীদের কালো গাউন পরিধানে শিথিলতা: তাপপ্রবাহের কারণে দেশের অধস্তন আদালতে আইনজীবী-বিচারকদের কালো কোট ও গাউন পরিধানের বাধ্যবাধকতা শিথিল করেছেন প্রধান বিচারপতি। গতকাল প্রধান বিচারপতির আদেশে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এতে বলা হয়, দেশের সকল অধস্তন দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত/ট্রাইব্যুনালসমূহের বিচারকরা কালো কোট, ক্ষেত্রমতো সাদা ফুলশার্ট বা সাদা শাড়ি/সালোয়ার কামিজ ও সাদা নেক ব্যান্ড পরিধান করবেন। সেক্ষেত্রে গাউন পরিধান করার আবশ্যকতা নেই। অন্যদিকে আইনজীবীরা ক্ষেত্রমতো সাদা ফুলশার্ট বা সাদা শাড়ি/সালোয়ার কামিজ ও সাদা নেক ব্যান্ড/কালো টাই পরিধান করবেন। সেক্ষেত্রে কালো কোট ও গাউন পরিধান করার আবশ্যকতা নেই। এ নির্দেশনা ৭ই এপ্রিল থেকে পরবর্তী নির্দেশ প্রদান না করা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
সাবেক বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন শুনানি ২৬শে এপ্রিল
স্টাফ রিপোর্টার
৮ এপ্রিল (বুধবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
