থানায় ওসি’র চেয়ারে এমপি পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

থানায় ওসি’র চেয়ারে এমপি পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

ফন্ট সাইজ:

ময়মনসিংহের ফুলপুর থানার ওসি’র চেয়ারে এমপি বসে দিক-নির্দেশনা দিচ্ছেন, টেবিলের সামনে পুলিশ সদস্য দাঁড়িয়ে আছেন। এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম (ফেসবুকে) ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। তবে, চেয়ারে বসা নিয়ে এমপি ও ওসি পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন। মঙ্গলবার বিকাল ৪ টায় ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল হাসান রাশেদ ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ তার চেয়ারে বসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একই সময়ে ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ ওসি’র চেয়ারে বসার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
সূত্র জানায়, গত ৫ই এপ্রিল ফুলপুর থানার ওসি ময়মনসিংহ পুলিশ লাইনে প্যারেড থাকায় সকাল সোয়া ৭টায় ফুলপুর থেকে ময়মনসিংহ চলে যান ওসি মো. রাশেদুল হাসান রাশেদ। পরবর্তীতে হঠাৎ সকাল ১০টায় থানায় উপস্থিত হন এমপি মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ। পরে তিনি ওসি’র চেয়ারের পাশে ফাঁকা চেয়ার থাকা সত্ত্বেও ওসি’র চেয়ারে গিয়ে বসেন এবং থানায় উপস্থিত থাকা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ মতবিনিময় করে চলে যান। ওসি’র চেয়ারে সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ বসার ভিডিওটি ৫ই এপ্রিল কেউ ফেসবুকে পোস্ট করেনি। তবে, সোমবার সন্ধ্যার পরে ভিডিওটি হঠাৎ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওসি’র চেয়ারে সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ বসে আছেন। তার পাশেই বসে ছিলেন থানার অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা। এ সময় এমপি সাহেব ওসি’র চেয়ারে বসে সামনে দাঁড়িয়ে অন্য এক পুলিশ কর্মকর্তাকে দিক-নির্দেশন দিতে দেখা যায়। ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপি’র একটি পেজ থেকে ভিডিও পোস্ট করে লিখেন, ফুলপুরে ওসি’র চেয়ারে এমপি’র বসা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। তিনি এমপি হয়ে একজন ওসি’র চেয়ার নিয়ে বসেছেন ওসি দাঁড়িয়ে রয়েছেন তাহলে স্বৈরতন্ত্র উঠলো কোথায়? প্রশাসন থাকবে নিরপেক্ষ এমপি তার কথামতো প্রশাসন চালাবে- এটা কি মগের মুল্লুক। এ বিষয়ে ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল হাসান রাশেদ বলেন, ওইদিন পুলিশ লাইনে আমার মাস্টার প্যারেড ছিল। সকাল সোয়া ৭টায় আমি পুলিশ লাইনের উদ্দেশ্যে রওনা হই। ওই দিন সংসদ সদস্য থানায় আসার কোনো রুটিন ছিল না বা আমাকে আগে থেকে কিছু জানাননি তিনি। এমপি সাহেবের গাড়ি থানা প্রাঙ্গণে ঢোকার পর তাকে জানানো হয়, ওসি থানায় নেই। তারপরে তিনি থানায় ঢোকেন। তিনি আরও বলেন, আমার কক্ষে ঢুকে প্রথমে আমার চেয়ারে বসতে ইতস্তত বোধ করেন। কিন্তু উনার সঙ্গে আসা লোকজন এমপি সাহেবকে আমার চেয়ারে বসতে বলেন। পরে তিনি চেয়ারে বসে কিছুক্ষণ কথা বলে চলে যান। এমপি আপনার চেয়ারে বসতে পারে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওসি’র চেয়ার ওসি ব্যতিত আর কেউ বসতে পারেন না। এ বিষয়ে ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ বলেন, ওই দিন আমি থানা পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। থানায় গিয়ে দেখি ওসি সাহেব থানায় নেই। পরে আমি চলে আসতে চাইলে থানার অন্যান্য কর্মকর্তারা আমাকে জোর করে ওসি’র চেয়ারে বসান। পরে আমি কিছুক্ষণ বসে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে চলে আসি। তবে, ওসি’র চেয়ারে বসা কোনো অপরাধ নয় বলেও জানান তিনি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন