দু’টি জাতের ধানের গোছা ও শীষ দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন ‘জাতীয় স্মৃতিসৌধ।’ ব্যস্ততম পাকা সড়কের পাশে সবুজ ধানক্ষেতে বেগুনি রঙের পার্কেল জাতের ধান দিয়ে ফুটিয়ে তোলা জাতীয় স্মৃতিসৌধের আদলের দিকে চোখ গেলেই তাকিয়ে থাকেন পথচারী ও যাত্রীরা। প্রতি বছর সবুজ ধানক্ষেতে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তুলে চমকে দেন স্কুলশিক্ষক জাফর সাদিক। অনেকে চোখেমুখে মুগ্ধতা ছড়িয়ে পলক না ফেলেই তাকিয়ে থাকেন সেই ক্ষেতের দিকে। পথচারীদের এই আনন্দই শিক্ষক জাফর সাদিককে প্রতি বছর নতুন নতুন প্রতিকৃতির আদল আঁকাতে উৎসাহিত করে।
উদ্যোক্তা জাফর সাদিক জানান, কৃষির প্রতি ভালোবাসা থেকে তিনি এসব করছেন। নকশাগুলো ফুটিয়ে তোলার জন্য কুমিল্লা থেকে ভিয়েতনামের কার্পল জাতের বেগুনি রঙের ধানবীজ সংগ্রহ করেছেন। সেই বেগুনি রঙের ধানের গোছা ও স্থানীয় জাতের ধানের গোছা দিয়ে এসব প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তোলেন। এবার ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত ও সম্ভ্রমহানি নারীদের স্মৃতির জন্য নির্মিত স্মৃতিসৌধকে ধানক্ষেতে ফুটিয়ে তুলে এক ধরনের শিক্ষার বার্তা দিতে চেয়েছেন তিনি।
দেখা যায়, কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা শহরের পৌরসভা এলাকার পূর্ব নাওডাঙ্গা গ্রামের স্কুলশিক্ষক জাফর সাদিকের কৃষিভিত্তিক ব্যতিক্রম কর্মকাণ্ড। শিক্ষকতা পেশার যুক্ত এই ব্যক্তির রয়েছে কৃষির প্রতি প্রচণ্ড টান ও ভালোবাসা। ব্যক্তিগতভাবে নিজের জমিতে নিজেই চাষাবাদে অংশগ্রহণ করেন তিনি। বিশেষ করে কৃষি বিভাগের নতুন নতুন জাতের গবেষণালব্ধ জাতের ধানচাষে তিনি একজন অগ্রগামী কৃষক। এছাড়াও ধানের জমিতে বিভিন্ন নকশার আদল ফুটিয়ে তুলে চমকে দেন গ্রামবাসীসহ পথচারী মানুষদের। প্রতি বছরের ন্যায় এবারো তিনি তার কৃষি জমিতে জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তুলে নজর কেড়েছেন আগ্রহী মানুষের।
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা থেকে রাজারহাট-রংপুরগামী ব্যস্ততম সড়কের মধ্যে নাওডাঙ্গা গ্রামের পাকা সড়কের বামদিকে তার ১৭ শতক জমির উপর ব্রিধান-১১৩ ও ভিয়েতনামের বেগুনি রঙের ডায়াবেটিকস জাতের পার্কেল ধানের গোছা দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন জাতীয় স্মৃতিসৌধের আদল বা প্রতিকৃতি। তার এই ব্যতিক্রমী প্রয়াস স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। ধানক্ষেতে তোলা স্মৃতিসৌধের এই প্রতিচ্ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ভাইরাল হয়েছে। অনেকে মন্তব্য করেছেন এটি শুধু এক কৃষকের শিল্প নয়, বরং শহীদদের প্রতি এক নীরব শ্রদ্ধাঞ্জলি এবং দেশপ্রেমের জীবন্ত উদাহরণ।
ধানক্ষেতে জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রতিকৃতি দেখতে আসা পরীক্ষার্থী জিম ও আয়ান জানায়, আমরা বন্ধুরা দলবেঁধে এই অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করতে এবং ছবি তুলতে এসেছি। স্থানীয় নুরন্নবী মিয়া জানান, এলাকার জন্য জাফর সাদিক মাস্টার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি একজন প্রতিভাবান মানুষ। এর আগে তিনি জাতীয় পতাকা, পরের বছর বাংলাদেশের মানচিত্র এবং এ বছর জাতীয় স্মৃতিসৌধ এঁকেছেন। পাশ দিয়ে হেঁটে গেলে অনেক ভালো লাগে। দূর-দূরান্ত থেকে অনেকে এসে ছবি তুলে নিয়ে যায়।
কুড়িগ্রামে সবুজ ধানক্ষেতে জ্বলজ্বল করছে ‘জাতীয় স্মৃতিসৌধ’
স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম থেকে
৮ এপ্রিল (বুধবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
