রাশিয়ার বাল্টিক সাগর উপকূলের প্রিমোর্স্ক বন্দর এবং নিঝনি নোভগোরোদ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। দেশটির ড্রোন বাহিনীর কমান্ডার রবার্ট ব্রোভদি এ তথ্য জানিয়েছেন।
আল জাজিরার এক খবরে বলা হয়েছে, রোববার রুশ কর্মকর্তারা প্রথম এ হামলার খবর প্রচার করেছে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের গভর্নর আলেক্সান্দার দ্রোজদেনকো শুরুতে জানান, প্রিমোর্স্ক বন্দরে একটি পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে তিনি বলেন, হামলার সময় শেল বা বিস্ফোরণের টুকরো আঘাতে বন্দরের একটি জ্বালানি ট্যাংক থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ে।
নিঝনি নোভগোরোদ অঞ্চলের গভর্নর গ্লেব নিকিতিন জানান, দেশটির চতুর্থ বৃহত্তম তেল শোধনাগারে আগুন ধরে যায়। তিনি বলেন, শোধনাগারের দুটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলায় একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং কয়েকটি বসতবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ফিনল্যান্ড সীমান্ত ও সেন্ট পিটার্সবার্গের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত প্রিমোর্স্ক বন্দরটি রাশিয়ার অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র। এর আগে মার্চ মাসেও সেখানে হামলায় একটি তেল ডিপোতে আগুন লেগেছিল। রাশিয়ার তেল পরিবহন প্রতিষ্ঠান ট্রান্সনেফ্ট এই বন্দর ব্যবহার করে বিদেশে তেল পাঠায়।
নিঝনি নোভগোরোদের নরসি শোধনাগারটি বছরে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মেট্রিক টন তেল প্রক্রিয়াজাত করতে সক্ষম, যা দৈনিক প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার ব্যারেলের সমান। এটি দেশটির অন্যতম বৃহৎ পেট্রোল উৎপাদক।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা জোরদার করেছে, যাতে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য মস্কোর গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব উৎসে আঘাত হানা যায়।
গত মাসে একপর্যায়ে ইউক্রেনের হামলা, দ্রুজবা পাইপলাইন বন্ধ এবং রাশিয়া-সংযুক্ত ট্যাংকার জব্দের কারণে দেশটির প্রায় ৪০ শতাংশ তেল রপ্তানি সক্ষমতা বন্ধ হয়ে যায় বলে জানা গেছে।
এদিকে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে স্থবির হয়ে পড়েছে। চলতি বছরে আবুধাবি ও জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে তিন দফা উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হলেও পূর্ব ইউক্রেনের ভূখণ্ড সংক্রান্ত প্রশ্নে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
গত মাসে নির্ধারিত চতুর্থ দফার বৈঠকটি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরান সংঘাতের কারণে স্থগিত করা হয়।
