বিশ্বের ড্রোন শিল্পে শীর্ষ অবস্থানে থাকা চীন এখন নিজ দেশের আকাশসীমায় ড্রোন ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করছে। নতুন নীতিমালার আওতায় বিনোদনমূলক ও বেসামরিক ড্রোন ব্যবহারকারীদের জন্য নিয়ম আরও কঠিন করা হয়েছে, যা ইতিমধ্যে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এ খবর দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অনুমতি ছাড়া ড্রোন উড়ালে শাস্তি হিসেবে কারাদণ্ডের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। আগামী মে মাস থেকে সব ড্রোন বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধন করতে হবে এবং মালিকের প্রকৃত পরিচয় যুক্ত করতে হবে। ব্যবহারকারীদের তাদের ড্রোনকে জাতীয় পরিচয়পত্র বা মোবাইল নম্বরের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে।
নিয়ম অনুযায়ী, অধিকাংশ শহর এলাকাকে সীমিত আকাশসীমা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এসব এলাকায় ড্রোন উড়াতে হলে অন্তত এক দিন আগে অনুমতি নিতে হবে। যদিও কিছু খোলা এলাকায় চারশ ফুটের নিচে ছোট ড্রোন ব্যবহারের ছাড় রাখা হয়েছে, তবে সেই সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। পাশাপাশি ড্রোনের উড্ডয়ন সংক্রান্ত তথ্য সরাসরি সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাবে।
মার্চে বেইজিং শহর কর্তৃপক্ষ আরও কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, রাজধানীর ভেতরে প্রায় সম্পূর্ণভাবে ড্রোন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি ড্রোন বা এর যন্ত্রাংশ বিক্রি, ভাড়া বা শহরে বহন করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অন্য প্রদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের ব্যাগ তল্লাশির ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।
তবে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে পুলিশে নিবন্ধন করলে আগের ড্রোন মালিকদের জন্য কিছু ছাড় রয়েছে। যদিও একই ঠিকানায় তিনটির বেশি ড্রোন রাখা যাবে না। বিশেষ প্রয়োজনে, যেমন গবেষণা বা সন্ত্রাসবিরোধী কাজে ব্যবহারের জন্য আলাদা অনুমতি দেয়া হতে পারে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আকাশসীমা সুশৃঙ্খল রাখতে এসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। অতীতে ড্রোনের কারণে বেসামরিক বিমান চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে। একাধিক ঘটনায় ড্রোন বিমানসংলগ্ন এলাকায় প্রবেশ করেছে এবং সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
চীনের নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, আকাশ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। একই সঙ্গে সরকার নিম্ন-উচ্চতার অর্থনীতি গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেছে, যেখানে ড্রোন ব্যবহার করে খাদ্য সরবরাহ, বিদ্যুৎ লাইন পর্যবেক্ষণ ও কৃষিকাজ সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে।
তবে নতুন এই কঠোর নীতিমালায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেক ব্যবহারকারী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ড্রোন জব্দ, জরিমানা এবং জিজ্ঞাসাবাদের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরছেন অনেকে। বহু আবেদন করেও অনুমতি না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হলেও অতিরিক্ত কঠোরতা স্বল্পমেয়াদে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে এবং বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ইতিমধ্যে ড্রোন বিক্রেতাদের ব্যবসা কমে যাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে এবং ব্যবহৃত ড্রোন বিক্রির প্রবণতা বেড়েছে।
সব মিলিয়ে, ড্রোন প্রযুক্তিতে বিশ্বনেতৃত্ব ধরে রাখলেও অভ্যন্তরীণ ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে চীন এখন নতুন এক নীতিগত ভারসাম্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
