সোলাইমানির স্বজন গ্রেপ্তারের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের, পরিবার বলছে সম্পর্ক নেই

সোলাইমানির স্বজন গ্রেপ্তারের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের, পরিবার বলছে সম্পর্ক নেই

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ইরানের আইআরজিসির নিহত কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানির দুই আত্মীয়কে গ্রেপ্তার করেছে। এর আগে তাদের বসবাসের অনুমতি (রেসিডেন্সি পারমিট) বাতিল করা হয়। মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন হামলায় নিহত সোলাইমানির ভাতিজি হামিদেহ সোলাইমানি আফশার এবং তার মেয়েকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাদের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিন কার্ড) মর্যাদা বাতিল করার পর এই পদক্ষেপ নেয়া হয়। রুবিও এক্সে জানান, তারা সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড নিয়ে বসবাস করছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, আফশার ইরানের শাসনব্যবস্থার সমর্থক এবং সামাজিক মাধ্যমে আমেরিকার বিরুদ্ধে হামলাকে সমর্থন করেছেন। তিনি বলেন, হামিদেহ সোলাইমানি আফশার এবং তার মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছিলেন। আফশার ইরানের শাসনব্যবস্থার একজন প্রকাশ্য সমর্থক এবং আমাদের দেশকে ‘গ্রেট স্যাটান’ বলে উল্লেখ করেছেন। রুবিও আরও জানান, তাদের আইনি মর্যাদা বাতিল করে এখন তারা ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর হেফাজতে রয়েছে। তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, আফশারের স্বামীকেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ইরানের গণমাধ্যমে সোলাইমানির দুই মেয়ে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার হওয়া ওই দুই নারী তাদের পরিবারের সদস্য নন। এর আগে একই মাসে রুবিও ইরানের সাবেক নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলি লারিজানির মেয়ে ফাতেমেহ আরদেশির-লারিজানি এবং তার স্বামীরও আইনি বসবাসের মর্যাদা বাতিল করেন। এই গ্রেপ্তারের ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি তার প্রথম মেয়াদে কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার সিদ্ধান্ত নিয়ে আবার কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, সোলাইমানি বেঁচে থাকলে বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।

কাসেম সোলাইমানি কে ছিলেন?
কাসেম সোলাইমানি ছিলেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড করপসের কুদস ফোর্সের প্রধান, যা বিদেশে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের অন্যতম প্রভাবশালী সামরিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং ২০২০ সালে বাগদাদে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন