সাফজয়ী যুবাদের প্রশংসায় সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটাররা

সাফজয়ী যুবাদের প্রশংসায় সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটাররা

ফন্ট সাইজ:

সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে নির্ধারিত সময় গোলশূন্য ড্র হওয়ার পর রুদ্ধশ্বাস টাইব্রেকারে ভারতকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা কুড়ায় বাংলাদেশ। এতে চার বছর আগের হারের মধুর প্রতিশোধ নিলো লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা। ২০২২ সালে এ টুর্নামেন্টে ভারতের কাছে হেরে শিরোপা বঞ্চিত হয় বাংলাদেশ। যুবাদের এই অর্জনে উজ্জ্বসিত বাংলাদেশ জাতীয় দলের বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটাররা। দ্বিতীয়বার সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতায় যুবাদের প্রশংসায় ভাসান তারা।
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন। নিঃসন্দেহে তোমরা আবারো বাংলাদেশকে গর্বিত করেছ।’ রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজের হয়ে পাকিস্তান সুপার লীগে ব্যস্ত সময় পার করছেন রিশাদ হোসেন। সেখান থেকে যুবাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন টাইগার লেগস্পিনার। রিশাদ লিখেছেন, ‘সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ২০ ফুটবল দলকে অভিনন্দন জানাই।’ একই ফ্র্যাঞ্চাইজি লীগে পেশোয়ার জালমির হয়ে খেলা টাইগার পেসার শরীফুল ইসলাম লিখেছেন, ‘সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের জন্য বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় ফুটবল দলকে জানাই বিশাল অভিনন্দন। এটা একটি দাপুটে জয় এবং বাংলাদেশের ফুটবলের ভবিষ্যতের এক উজ্জ্বল ইঙ্গিত।’ সাফজয়ী দলকে অভিনন্দন জানান মাশরাফি বিন মুর্তজা, মুশফিকুর রহীম, লিটন কুমার দাসরাও। মাশরাফি লিখেছেন, ‘অভিনন্দন।’ ফেসবুক পেজে মুশফিক লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, চ্যাম্পিয়ন! সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬ জেতায় তরুণদের অভিনন্দন।’ অভিনন্দন জানাতে গিয়ে টাইগারদের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল লিখেছেন, ‘অভিনন্দন বাংলাদেশ। সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়ন।’ ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে তাসকিন আহমেদ লিখেছেন, ‘বাংলাদেশকে অনেক অনেক অভিনন্দন! রোমাঞ্চকর টাইব্রেকারে ভারতের বিপক্ষে জিতে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা-দারুণ পারফরম্যান্স।’ যুবাদের প্রশংসা করে উইকেটরক্ষক ব্যাটার লিটন কুমার দাস লিখেছেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন। দারুণ খেলেছে বাংলাদেশ দল। আমাদের গর্বিত করার জন্য ধন্যবাদ।’ মালের জাতীয় স্টেডিয়ামে শুক্রবার ভারতের বিপক্ষে এক পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। সানি দাসের বদলে শুরুর একাদশে সুযোগ পান আব্দুল রিয়াদ ফাহিম। ম্যাচের ১৩তম মিনিটে রোনানের ক্রসে বক্সের ভেতরে মিঠু চোধুরীর হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৩৬ মিনিটে কর্নারের পর ছোট বক্সের ওপর থেকে ঋশিকান্ডা শরীর ঘুরিয়ে ভলি করেন। কিন্তু রক্ষণের বাধায় ঠিকঠাক শট নিতে পারেননি। কামাল মৃধার ক্লিয়ারেন্সের পর জদরিক আব্রানাচেসের দুর্বল হেড সহজেই গ্লাভসে জমান গোলকিপার ইসমাইল হোসেন মাহিন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সতীর্থের নিচু পাস বুটের টোকায় তুলে সাইড ভলি করেন রোনান, কিন্তু বল উড়ে যায় ক্রসবারের অনেক উপর দিয়ে। দ্বিতীয়ার্ধে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে দুই দলই, কিন্তু কেউই প্রতিপক্ষের রক্ষণে চিড় ধরাতে পারেনি। ৬৫ মিনিটে নাজমুল হুদা ফয়সালের বদলি নামেন ডেকলান। বাকি সময়ে কোনো দল গোলের দেখা না পেলে ফাইনালের ভাগ্য গড়ায় টাইব্রেকারে। শ্বাসরুদ্ধকর টাইব্রেকারে ভারতের ঋষি সিংয়ের প্রথম শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে আটকান ইসমাইল হোসেন মাহিন। বাংলাদেশের হয়ে টানা তিন গোল করেন মুর্শেদ আলী, চন্দন রায়, আব্দুল রিয়াদ ফাহিম। ভারতের মোহাম্মদ আরবাস, স্যামসন ও বিশাল যাদব গোল করলে স্কোর দাড়ায় ৩-৩। বাংলাদেশের চতুর্থ শট নিতে আসেন স্যামুয়েল রাকসাম। তখনই ভারত গোলকিপার সুরজ সিং ব্যথায় কাতরাতে কাতরাতে শুয়ে পড়েন মাটিতে। বাংলাদেশের মোমেন্টাম কিছুটা নষ্ট হয় সেখানে। কিছুক্ষণ চিকিৎসা নিয়ে পোস্টে ফেরেন সুরজ। স্যামুয়েল রাকসামের শট ক্রসবারে প্রতিহত হয়। তবে পঞ্চম শট নিতে এসে ভারতের ওমং দোদুম বাইরে মারেন। বাংলাদেশ তখন তাকিয়ে রোনান সুলিভানের দিকে। পানেনকা শটে লক্ষ্যভেদ করেন বাংলাদেশের এই যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ফুটবলার। জয়ের উচ্ছ্বাসে উৎসবে মাতে বাংলাদেশ। জয়ের পর অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী বলেন, ‘আমি চার বছর ধরে এই দিনটির অপেক্ষায় ছিলাম। আল্লাহ আমাদের তা দিয়েছেন। আমার কাছে মনে হচ্ছে আমরা ২০ কোটি মানুষের স্বপ্ন ও বিশ্বাস রক্ষা করতে পেরেছি।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন