কুমিল্লায় মেডিকেল ছাত্রী অর্পিতার মৃত্যু ঘিরে নানা প্রশ্ন

কুমিল্লায় মেডিকেল ছাত্রী অর্পিতার মৃত্যু ঘিরে নানা প্রশ্ন

ফন্ট সাইজ:

কুমিল্লার সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী অর্পিতা নওশিনের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে পুলিশ ক্যাম্পাস সংলগ্ন হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। এক ভাই-এক বোনের মধ্যে অর্পিতা ছোট।
অর্পিতা কলেজের এক নারী শিক্ষকের মানসিক চাপে ‘অতিরিক্ত ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা’ করতে বাধ্য হয়েছেন তার সহপাঠীরা এমন দাবি করলেও পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের আগে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনায় শনিবার কলেজ কর্তৃপক্ষ ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির প্রধান কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. জহিরুল ইসলাম।
পুলিশ ও কলেজ সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে কলেজটির সদর দক্ষিণ উপজেলার মোস্তফাপুর ক্যাম্পাস সংলগ্ন মহিলা হোস্টেল থেকে অর্পিতার নিথর দেহ উদ্ধার করে কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। পরীক্ষার পর চিকিৎকসরা জানিয়েছেন হাসপাতালে নেয়ার অনেক আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কমকর্তারা বলছেন, ‘ওই মেডিকেল ছাত্রীর মরদেহ ১০টার দিকে উদ্ধার করে থানায় নেয়া হয়। এদিকে কলেজের ঘটিত তদন্ত কমিটি ওই ছাত্রীর বিগত বছরের পরীক্ষার খাতা জব্দ করে প্রাপ্ত নম্বর যাচাই বাছাই করবে বলে জানা গেছে।’
বিকালে মরদেহ নিয়ে খুলনার পথে রওয়ানা দেন তার ভাই শাহরিয়ার আরমান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার বোনের এরকম কোনো মানসিকতা নাই যে, সে আত্মহত্যা করবে। শিক্ষকের মানসিক চাপ থেকে এটা হয়তো করেছে। নওশিন বারবার এনাটমি বিভাগের মনিরা ম্যাডামের (ডা. মনিরা জহির) কথা বলতো। একদম ফার্স্ট ইয়ার থেকে আমার বোনকে মানসিক নিপীড়ন করেছেন তিনি। সবাইকে পাস করিয়ে দেয়, আমার বোন প্রত্যেকটা সাবজেক্ট পাস করে, কিন্তু ওই একটা সাবজেক্টে আটকে রাখে। আমি বলেছি যে, আমার বোনের সমস্যা কোথায় বলেন, তাও বলবে না। প্রেসার দিতে দিতে আমার বোনকে মেন্টালি নিপীড়ন যারা করেছে, তারাই এই মার্ডার করেছে। আমি ওই শিক্ষকের বিচার দাবি করছি।’ শাহরিয়ার আরমান বলেন, ‘কতো স্বপ্ন ছিল আমাদের বোনটি ডাক্তার হবে। বৃহস্পতিবারও ওর (অর্পিতা) সঙ্গে আমি কথা বলেছি। ফরম ফিলাপের জন্য টাকা নিয়েছে। আমাকে বললো যে, ভাই আমি তো বাড়িতে বলতে পারছি না, আব্বুর ভয়ে, এখন তুই একটু ম্যানেজ কর। আমি বললাম, ঠিক আছে, তুই তোর বন্ধুর সঙ্গে ফরম ফিলাপটা কর, আমি টাকা পাঠাচ্ছি। আর আজকে এরকম খবর পাবো কোনোদিন কল্পনা করিনি।’
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এনাটমি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মনিরা জহির কলেজের প্রয়াত অধ্যক্ষ ডা. জহিরুল ইসলামের মেয়ে। শনিবার একাধিকবার তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে কল দেয়া হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফজলুল হক লিটন বলেন, ‘চিকিৎসক হওয়ার আগেই আমাদের একজন ছাত্রীর নিথর দেহ আজ পরিবারের কাছে যাচ্ছে। এমন মৃত্যু আমাদের মর্মাহত করেছে। তদন্তসাপেক্ষে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সিরাজুল মোস্তফা বলেন, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের পর শনিবার বিকালে স্বজনদের নিকট অর্পিতার মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। তবে কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। ওই ছাত্রীর কক্ষ থেকে কিছু আলামত জব্দ করা হয়েছে। অতিরিক্ত ঘুমের ট্যাবলেট খেয়েছে কিনা বিষয়টির তদন্ত চলছে।

Md.Habibur Rahman

২ মাস আগে

সুস্ট তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করার জন্য দাবি জানাচ্ছি।

মন্তব্য করুন