ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ভাষণ এক ধরনের দ্বৈত বার্তা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি একদিকে দাবি করেছেন, ইরানের নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও পারমাণবিক অবকাঠামোর বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। অন্যদিকে, তিনি ভবিষ্যতে আরও হামলার হুমকিও দিয়েছেন। ফলে যুদ্ধ শেষের দাবি এবং তা অব্যাহত রাখার ঘোষণা—দুটি পরস্পরবিরোধী অবস্থান সামনে এসেছে।
ইরানকে প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নেয়ার ট্রাম্পের হুমকিতে দেশটির অভ্যন্তরে প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। সামাজিক মাধ্যমে এমনকি সরকারবিরোধী অংশের মধ্যেও জাতীয়তাবাদী মনোভাব জোরদার হয়েছে, যা অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়ানোর বদলে অবরুদ্ধ রাষ্ট্র ধারণাকে শক্তিশালী করেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও শীর্ষ কমান্ডারদের হত্যা করে মার্কিন প্রশাসন মনে করছে দেশটিতে কার্যত শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটে গেছে। কিন্তু বাস্তবে এমন কোনো কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা এখনও একই কাঠামোর মধ্যেই রয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির মতো নেতারা সকলেই নিজ নিজ অবস্থানে বহাল।
যুদ্ধের ফলে নিহত কমান্ডারদের জায়গায় একই মতাদর্শের, বরং আরও কঠোর অবস্থানের ব্যক্তিরা দায়িত্ব নিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শাসন পরিবর্তন নয়, বরং শাসনব্যবস্থার স্থিতিস্থাপকতার প্রমাণ।
ইরানের কৌশলও প্রচলিত সামরিক জয়ের ধারণার বাইরে। তাদের লক্ষ্য মূলত টিকে থাকা। দীর্ঘদিন ধরে তেহরানের ধারণা শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে টিকে থাকাই এক ধরনের বিজয়। সেই হিসেবে এক মাসের বেশি সময় পরও রাষ্ট্রীয় কাঠামো সচল থাকা এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অটুট থাকা ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুটের ওপর নিয়ন্ত্রণ ইরানকে এখনও কৌশলগত সুবিধা দিচ্ছে। বিশ্বে ব্যবহৃত প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই পথ দিয়ে যায়, যা তেহরানকে চাপ প্রয়োগের সক্ষমতা দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র একটি জটিল দ্বিধার মুখে। এখন সরে গেলে ইরানের সহনশীলতার কৌশল সফল প্রমাণিত হবে। আর যুদ্ধ চালিয়ে গেলে খরচ বাড়বে, কিন্তু স্পষ্ট বিজয়ের পথ অনিশ্চিত।
ইরানের অবস্থানও অপরিবর্তিত রয়েছে। যুদ্ধ শেষের জন্য তাদের মূল শর্তগুলো হলো— শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা, ভবিষ্যৎ হামলার বিরুদ্ধে নিশ্চয়তা, কার্যকর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং প্রতিরোধ সক্ষমতা বজায় রাখা।
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি আরও বাড়বে এতে সন্দেহ নেই। তবে যদি এই চাপের মধ্যেও শাসনব্যবস্থা টিকে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের হুমকির বিশ্বাসযোগ্যতা কমে যেতে পারে।
এমন বাস্তবতায় মধ্যপ্রাচ্যের কিছু আরব দেশও উদ্বিগ্ন। তারা আশঙ্কা করছে, যুদ্ধ যদি অনির্দিষ্টভাবে শেষ হয়, তাহলে আরও আত্মবিশ্বাসী একটি ইরান আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে, এখন পর্যন্ত নতুন কোনো ইরান গড়ে ওঠেনি। যুদ্ধ শেষে যদি একই বাস্তবতা বজায় থাকে, তাহলে প্রশ্ন উঠবে ওয়াশিংটনের ঘোষিত সাফল্য কতটা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
(সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত)
বিবিসির বিশ্লেষণ
ইরানের টিকে থাকার কৌশলের মানে আগের শাসনব্যবস্থাই অটুট থাকবে
আমির আজিমি
বিশ্বজমিন
২ মাস আগে
৩ এপ্রিল (শুক্রবার), ২০২৬, ২ঃ০৮ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%

BAD MOUTH
২ মাস আগেHallow BBC, End does not justify means.