প্রধানমন্ত্রীর চার বিশেষ সহকারী নিয়োগ

ফন্ট সাইজ:

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন চারজন। এরমধ্যে দু’জনকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায়, একজনকে সচিব মর্যাদায়, অপরজনকে ‘গ্রেড-২’ পদমর্যাদায় নিয়োগ দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় সাবেক সচিব বিজন কান্তি সরকারকে প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃস্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হিসেবেও আছেন বিজন কান্তি সরকার। তিনি হিন্দু বৌদ্ধ খৃস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যানও। এছাড়া প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন তানভীর গণি। তিনি এশিয়ার সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি টাইবোর্ন ক্যাপিটালের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি। এদিকে সচিব মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান। যিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সাবেক ছাত্র এবং শিক্ষক। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানের পি আর রিভিউ জার্নালে তার ১৫০টিরও বেশি বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র এবং প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া গ্রেড-২ মর্যাদায় সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহকে বিশেষ সহকারী (যুব কর্মসংস্থান) হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র।




ভূমিতে কোনো দুর্নীতি প্রশ্রয় দেয়া হবে না: ভূমি প্রতিমন্ত্রীস্টাফ রিপোর্টার: ভূমি ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়া হবে না উল্লেখ করে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করতে হবে এবং দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর কাটাবনে ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (এলএটিসি) অডিটোরিয়ামে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণের (ইউএনও) জন্য আয়োজিত উচ্চতর ভূমি ব্যবস্থাপনা কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল তার বক্তব্যে দক্ষ, স্বচ্ছ এবং জনবান্ধব ভূমি সেবা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রতি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেন। প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের দিকে ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, সবধরনের কাজ দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। কাজের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই দীর্ঘসূত্রতা করা যাবে না। এ ছাড়া তিনি ভূমিসেবাকে আরও ইউজার ফ্রেন্ডলি এবং সহজ করার কথা উল্লেখ করে বলেন, শুধুমাত্র রুটিন মাফিক কাজ না করে ভূমিসেবাকে কীভাবে আরও ইউজার ফ্রেন্ডলি এবং সহজ করা যায়, সে বিষয়ে গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ লক্ষ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ে একটি অত্যাধুনিক একাডেমি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানান তিনি।
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল আরও বলেন, আইনি কাজে কোনো নেতিবাচক আপস করা যাবে না। আইনের বাইরে যাওয়ার এখতিয়ার কারও নেই। কর্মকর্তাদের কাজের সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনি সুরক্ষা বা ‘লিগ্যাল প্রটেকশন’ দেয়ার কথা বলেন তিনি।
বহিরাগত অনলাইন অপারেটদের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দীন। বাইরের ফটোস্ট্যাট দোকানে ল্যাপটপ নিয়ে যত্রতত্র অনলাইন ভূমিসেবা প্রদানকারীদের নিরুৎসাহিত করার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। এসব জটিল কাজ পাসওয়ার্ড ও আইডিধারী নির্দিষ্ট প্রশিক্ষিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী।
মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি ভূমির আধুনিকায়ন করার বিষয়ে বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনা এখন অনেক বেশি অটোমেটেড ও ডিজিটালাইজড। এই বার্তাটি গ্রাম-গঞ্জে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে- যাতে তারা প্রতারণার শিকার না হন। ভূমির কাজ যে আগের চেয়ে সহজ হয়েছে, এই পারসেপশন বা ধারণা মানুষের মধ্যে তৈরি করতে হবে।

ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ আবুল খায়েরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ এবং ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) ড. মো. মাহমুদ হাসান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কোর্স পরিচালক খান এ. সবুর খান।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন