পাকিস্তান সুপার লীগে (পিএসএল) স্বরূপে ফিরতে একদমই সময় নিলেন না সাহিবজাদা ফারহান। বুধবার লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে হায়দরাবাদ কিংসমেনের দেয়া ২২৬ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়ায় রীতিমতো তাণ্ডব চালান এ তারকা ওপেনার। তার বিস্ফোরক সেঞ্চুরিতে ভর করে ৮ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই রেকর্ড জয় তুলে নেয় মুলতান সুলতানস। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ডে এখন বিরাট কোহলির পাশেই সাহিবজাদা। এবং পাকিস্তানিদের মধ্যে তার সামনে শুধু বাবর আজম।
টসে হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫ উইকেটে ২২৫ রান সংগ্রহ করে হায়দরাবাদ। দলের হয়ে মাজ সাদাকাত ২৬ বলে ৬২ এবং শারজিল খান করেন ২৬ বলে ৫১ রান। বিশাল এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ছিলেন সাহিবজাদা ও স্টিভেন স্মিথ। প্রথম ৯ বলে মাত্র ৯ রান করলেও, হাসান খানের ওভারে একটি ছক্কা ও দুটি চার মেরে ডানা মেলেন এ ডানহাতি ব্যাটার। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। কেবল ২৫ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর ৫৫ বলে তিনি পৌঁছে যান তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে। ৫৭ বলে অপরাজিত ১০৬ রানের ইনিংসটি তিনি সাজান ৭ চার ও ৮ ছক্কায়।
পিএসএলে নিজের প্রথম সেঞ্চুরির দিয়েই সীমিত সংস্করণের ক্রিকেটে একাধিক রেকর্ডে নাম লেখান সাহিবজাদা। এটি তার ক্যারিয়ারের নবম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি। সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির তালিকায় চারে থাকা কোহলি ও রাইলি রুশোরও সমান ৯টি করে সেঞ্চুরি। তবে কোহলি (৪১৫ ম্যাচ) ও রুশোর (৩৯৩ ম্যাচ) চেয়ে অনেক কম ম্যাচ (১৬৬) খেলে এই মাইলফলক ছুঁলেন সাহিবজাদা। পাকিস্তানি ব্যাটারদের মধ্যে এখন তার ওপরে আছেন শুধু বাবর আজম (১১ সেঞ্চুরি)। এছাড়া ১০টি সেঞ্চুরি নিয়ে তিনে ডেভিড ওয়ার্নার।
স্টিভেন স্মিথের ২০ বলে ৪৬ এবং শান মাসুদের ১৬ বলে ২৯ রানের ইনিংসও মুলতানের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে অবদান রাখে। ম্যাচ শেষে নিশ্চিতভাবেই ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ পুরস্কারটি ওঠে সেঞ্চুরিয়ান সাহিবজাদার হাতেই। এই জয়ের মাধ্যমে গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে সর্বোচ্চ রান তাড়া করার নতুন রেকর্ড গড়ে মুলতান।
