এশিয়ার মঞ্চে অভিষেকে জয়ের সুভাস পেয়েও হৃদয়বিদারক হার নিয়ে মাঠ ছাড়লো বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দল। মোসাম্মৎ সাগরিকার জোড়া গোলে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও রক্ষণের ভুলে স্বাগতিক থাইল্যান্ডের কাছে আজ ৩-২ গোলে হারলো পিটার বাটলারের শিষ্যরা। দ্বিতীয়ার্ধের মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে জোড়া পেনাল্টিসহ তিন গোল হজম করে জয়ের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয় লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের। ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের পরবর্তী দুই প্রতিপক্ষ শক্তিশালী চীন ও ভিয়েতনাম।
৫-৩-২ ফরমেশনে শুরুর একাদশ সাজান বাংলাদেশের বৃটিশ কোচ বাটলার। গোল পোস্টের দায়িত্ব সামলান মিলি আক্তার। ম্যাচের শুরু থেকে স্বাগতিক থাইল্যান্ডের চোখে চোখ রেখে লড়াই করে বাংলাদেশের মেয়েরা। বল দখলে পিছিয়ে থাকলেও থাইল্যান্ডের একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে দেয় বাংলাদেশ। ১১ মিনিটের মাথায় মিডফিল্ডার স্বপ্না রাণীর দূরপাল্লার শট ঠেকিয়ে দেন থাই গোলরক্ষক আতিমা বুনপ্রাকানপাই। এর পাঁচ মিনিট পর ফ্রি কিক আটকানোর চেষ্টা করেন মিলি আক্তার। তার গ্লাভস গলে বল বেরিয়ে যাওয়ার পর প্রতিপক্ষের কুরিসারা লিম্পাওয়ানিচের নেয়া শট লক্ষ্যে থাকেনি। ২৫ মিনিটের মাথায় স্বপ্নাকে তুলে পুজা দাসকে নামান বাটলার। ৩৬ মিনিটে দারুণ এক আক্রমণে ২০০৪ সালের সেমিফাইনালিস্টদের বিপক্ষে লিড নেয় বাংলাদেশ। মমিতা খাতুনের পাস ধরে লক্ষ্যভেদ করেন সাগরিকা। বল পাওয়ার পর তার সামনে থাইল্যান্ডের কোনো ফুটবলার ছিলেন না। দ্রুতগতিতে বল নিয়ে এগিয়ে গিয়ে থাই গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন এই ফরোয়ার্ড। আর এই গোলের মধ্য দিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান তিনি। বাংলাদেশের প্রথম নারী ফুটবলার হিসেবে এশিয়ান কাপের মঞ্চে গোল করার অনন্য কীর্তি এখন সাগরিকার। ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে থাইল্যান্ডের আক্রমণে ধার কিছুটা কমে আসে। বিরতির আগে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পান সাগরিকা। এবার আর থাইল্যান্ডের রক্ষণকে ফাঁকি দিতে পারেননি ১৮ বছর বয়সী এ ফুটবলার। বিরতি থেকে ফিরেও দাপট দেখায় বাংলাদেশ। ৪৯ মিনিটের নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন সাগরিকা। তখন মনে হচ্ছিল, থাইল্যান্ডকে হারানো বাংলাদেশের জন্য সময়ের ব্যাপার মাত্র। কিন্তু ৬৯ মিনিটে দৃশ্যপট বদলে যায়। বক্সের ভেতর থাইল্যান্ডের ফরোয়ার্ডকে ফাউল করে বসেন সুরভী আক্তার আরফিন। রেফারি সরাসরি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পট কিক থেকে গোল করে থাইল্যান্ডকে ম্যাচে ফেরান কুরিসারা। গোল হজম করে চাপে পড়ে খেই হারায় বাংলাদেশ। ৭৬ মিনিটে আবারও পেনাল্টি পায় থাইল্যান্ড। এবার বক্সের ভেতর পিচায়াতিদাকে ফেলে দেন নবীরন খাতুন। স্পট কিক থেকে রিনায়াপাত নিখুঁত শটে গোল করে স্বাগতিকদের ২-২ সমতায় ফেরান। সমতায় ফেরার পর আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা থাইল্যান্ড বাংলাদেশের ওপর আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে দেয়। ৭৯ মিনিটে গোল করে থাইল্যান্ডকে এগিয়ে দেন পিচায়াতিদা। এটি ম্যাচে তার দ্বিতীয় গোল। ম্যাচের বাকি সময়ে বাংলাদেশ সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও থাই রক্ষণভাগ আর কোনো ভুল করেনি। ফলে ৩-২ গোলের হতাশাজনক হারে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপ মিশন শুরু করে বাংলাদেশ।
এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপ
আশা জাগিয়ে রক্ষণের ভুলে হারলো বাংলাদেশ
স্পোর্টস ডেস্ক
খেলা
২ মাস আগে
১ এপ্রিল (বুধবার), ২০২৬, ৯ঃ২৮ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
