নিদারুণ এক বাস্তবতার সামনে ইতালি। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন প্রথম দেশ হিসেবে টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হলো আজ্জুরিরা। অন্যদিকে মরণপণ লড়াইয়ে ইতালিকে দুঃখের সাগরে ভাসিয়ে অপার আনন্দে মাতলো বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। নির্ধারিত সময়ে দু’দলের স্কোরলাইন ১-১ গোলে সমতা হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে কপাল পোড়ে ইতালির। টাইব্রেকারে তাদের ৪-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট কাটে বলকান অঞ্চলের দেশ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। এই ব্যর্থতা আজ্জুরিদের দীর্ঘদিনের ক্ষয়ে যাওয়া রাজত্বের ধ্বংসস্তূপে বড় আঘাত হয়ে থাকবে। যে দেশ পাওলো রসি, পাওলো মালদিনি, রবার্তো ব্যাজিও, জিয়ানলুইজি বুফন কিংবা আন্দ্রেয়া পিরলোর মতো ফুটবল জাদুকরদের জন্ম দিয়েছে, সেই ইতালির বর্তমান দৈন্যদশা ফুটবল বিশ্বকে স্তম্ভিত করেছে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৭১তম স্থানে থাকা বসনিয়ার রক্ষণব্যুহ ভাঙতে ব্যর্থ হওয়া ইতালি দলের সামর্থ্য নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন উঠেছে। ২০২০ সালে ইউরোপ সেরার মুকুট পরলেও বিশ্বকাপের মূল আসরে গত ১২ বছর ধরে ব্রাত্য হয়ে আছে ইউরোপের এই পরাশক্তি। জেনিকার বিলিনো পোলজে স্টেডিয়ামে বুধবার রাতে প্লে-অফ ফাইনালে ৪২ মিনিটে আলেহান্দ্রো বাস্তোনিকে হারিয়ে ১০ জনের দলে পরিণত হয় ইতালি। প্রথমার্ধ ১-০ গোলে এগিয়ে শেষ করার পর তাদের কাছে বিশ্বকাপে ওঠা কেবল সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিল। কিন্তু শেষ দিকে ঘুরে যেতে থাকে সবকিছু। ৮০তম মিনিটে হারিস তাবাকোভিচের গোলে বসনিয়া সমতায় ফেরার পর ট্রাইব্রেকারে জিতে যায় দলটি। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ইতালির টানা ব্যর্থতার পেছনে দেশটির বর্তমান ফুটবল কাঠামোই দায়ী। ইউরোপের সেরা পাঁচ ঘরোয়া লীগের একটি হওয়া সত্ত্বেও দিনে দিনে জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে সিরি আ লীগ। এ লীগের ক্লাবগুলো দেশীয় তরুণ প্রতিভাকে সুযোগ দেয়ার চেয়ে সস্তা বিদেশি খেলোয়াড় কিংবা অভিজ্ঞ প্রবীণদের নিয়ে দল গঠন করে। দ্রুততর সময়ে সাফল্যের লাভের নেশা ইতালির যুব ফুটবল অ্যাকাডেমিকে প্রায় ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ ও জার্মাান বুন্ডেসলিগার তুলনায় স্টেডিয়ামের আধুনিকায়ন ও মালিকানা সংকটে সিরি এ লীগে খেলা ক্লাবগুলোর আয়ের উৎস কমে গেছে। ফলে ক্লাবগুলো দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগে ব্যর্থ হচ্ছে। ইতালি তাদের চিরাচরিত ‘রক্ষণ-ই শেষ কথা’-এমন দর্শন বিসর্জন দিলেও আধুনিক দ্রুতগতির ফুটবল ঘরানায় এখনও নিজেদের রপ্ত করতে পারেনি। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ইতালির চেয়ে পিছিয়ে থাকা দলগুলোর রক্ষণ দুর্গ ভাঙতে তাদের আক্রমণভাগ বড় ধরণের ছাপ রাখতে পারেনি। নরওয়ের মতো দলের চাইতে ৬ পয়েন্টে পিছিয়ে থেকে বাছাইপর্ব মিশন শেষ করেছে। ইতালি দলের কোচ ও টিম ম্যানজেম্যান্ট নিয়েও অভিযোগ আছে। দলের অভিজ্ঞ ও বয়সের ভারে ন্যুব্জ খেলোয়াড়দের ওপর অন্ধ বিশ্বাস রেখে তরুণ ফুটবলারদের তারা উপেক্ষা করেছেন। অর্থকড়ির দিক থেকেও থেকেও ইতালির লীগ এখন ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের চেয়ে যোজন ব্যবধানে পিছিয়ে। আকাশচুম্বী টিভি স্বত্ব ও বাণিজ্যিক চুক্তির অভাবে ক্লাবগুলো তরুণ পারফরমারদের ধরে রাখতে পারছে না। ক্যারিয়ারের শীর্ষে পৌঁছানোর আগেই প্রতিভাবানরা বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন।
এছাড়া সেন্টার-ফরোয়ার্ড বা স্ট্রাইকার পজিশনে গোলদাতার অভাব ইতালির অপেক্ষা বাড়িয়েছে।
টানা তৃতীয় বিশ্বকাপের বাইরে ইতালি
স্পোর্টস ডেস্ক
২ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
