নাটোরের লালপুরে একটি অনিবন্ধিত ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল বিক্রির অনিয়মের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন ওমর ফারুক নামের এক সাংবাদিক। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার কদিমচিলান এলাকায় মেসার্স সাদিয়া ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কদিমচিলান এলাকার সাদিয়া ফিলিং স্টেশনে ট্যাগ অফিসারের অনুপস্থিতিতে জ্বালানি তেল বিক্রি চলছিল। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অনিয়মের চিত্র ধারণ করতে যান এশিয়ান টেলিভিশনের লালপুর উপজেলা প্রতিনিধি ওমর ফারুক। ভুক্তভোগী মানবজমিনকে জানান, সাধারণ গ্রাহকদের মোটরসাইকেলে মাত্র ১০০ টাকার তেল দেয়া হলেও একই সময়ে বিপুল পরিমাণ তেল বড় বড় কন্টেইনারে সরবরাহ করা হচ্ছিল। এ দৃশ্য ধারণ করতে গেলে কদিমচিলান ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সভাপতি আব্দুল বারী তাকে বাধা দেন এবং একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতিতেই ৫ থেকে ৬ জন তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারলে তিনি গুরুতর আহত হন। অভিযোগ অস্বীকার করে বারী বলেন, তিনি কেবল ভিডিও ধারণ করতে নিষেধ করেছিলেন। পরে উপস্থিত কিছু লোকজন সাংবাদিককে মারধর করে। এ বিষয়ে সাদিয়া ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তারা মেঘনা পেট্রোলিয়াম এজেন্সি থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করেন। তবে অনিবন্ধিত স্টেশনে কীভাবে তা সরবরাহ হচ্ছে- সে বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ মানবজমিনকে বলেন, ফিলিং স্টেশনটি সরকারি তালিকাভুক্ত নয় এবং সেখানে কোনো ট্যাগ অফিসারও নিয়োগ করা হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লালপুর থানার ওসি মজিবর রহমান জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অবৈধ পাম্পে তেল বিক্রির ভিডিও ধারণ করায় সাংবাদিকের ওপর হামলা
লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
২ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
