বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ইতালির ভরাডুবি পুরো ফুটবল বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। হতাশ খেলোয়াড়রা। ভেঙে পড়েছেন তাদের সমর্থক। সব মিলিয়ে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। এ দৃশ্য খেলাধুলার সীমানা ছাড়িয়ে গেছে। মঙ্গলবার বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে উত্তেজনাপূর্ণ প্লে-অফ ফাইনালে ইতালির এই বিপর্যয় ঘটে। টাইব্রেকারে ৪-১ ব্যবধানে হেরে উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠেয় আগামী বিশ্বকাপে ওঠার সুযোগ হাতছাড়া করে আজ্জুরি। একসময় শক্ত রক্ষণভাগ ও টুর্নামেন্টে সাফল্যের জন্য পরিচিত ইতালি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ব্যর্থ হয়। তাদের ঐতিহ্যগত দৃঢ়তা ও কৌশলগত স্বচ্ছতা দেখা যায়নি। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
ফুটবলে সমৃদ্ধ ইতিহাসের জন্য গর্বিত একটি দেশের জন্য টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়া এক গভীর সাংস্কৃতিক আঘাতের মতো। এ ঘটনা সাম্প্রতিক ব্যর্থতার ক্ষত আবারও উসকে দিয়েছে এবং ইতালীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে কঠিন প্রশ্ন তুলেছে।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পরও তারা বারবার বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ব্যর্থ হচ্ছে। গ্যালারিতে হতাশা, বিশ্লেষকদের অবিশ্বাস এবং মাঠে আবেগের বিস্ফোরণ- সব মিলিয়ে এটি পরিচয় সংকটের ইঙ্গিত দেয়। একটি দল, যারা মহাদেশীয় পর্যায়ে সফল, তারা বৈশ্বিক মঞ্চে কেন বারবার হোঁচট খাচ্ছে?
এর ফলাফল হবে কঠোর- কাঠামোগত সংস্কার, কৌশলগত পরিবর্তন এবং আক্রমণভাগ উন্নয়নের দাবি উঠবে। তবে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের বাইরে একটি গভীর সত্য রয়েছে, ইতালির বিশ্বকাপে না থাকা শুধু একটি ক্রীড়া হতাশা নয়, বরং একটি ফুটবল শক্তির বারবার ভেঙে পড়া।
জেনিচায় এসমির বাজরাকতারেভিচ টাইব্রেকারে জয়সূচক গোল করেন। ফলে বসনিয়া গ্রুপ ‘বি’-তে জায়গা করে নেয়। তারা বিশ্বকাপে কানাডা, সুইজারল্যান্ড ও কাতারের বিপক্ষে খেলবে। আর ইতালি পড়ে যায় নতুন দুঃস্বপ্নে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি ১৫ মিনিটে মোইসে কিয়ানের গোলে এগিয়ে যায়। কিন্তু বিলিনো পোলিয়ে স্টেডিয়ামে বেশির ভাগ সময় ১০ জন নিয়ে খেলার কারণে চাপ সামলাতে পারেনি। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার চার মিনিট আগে আমার মেমিচকে ফাউল করায় আলেসান্দ্রো বাসতোনি লাল কার্ড দেখেন। এরপর ৭৯ মিনিটে হারিস তাবাকোভিচ গোল করে ম্যাচ সমতায় ফেরান এবং খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়।
টাইব্রেকারে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। পিও এসপোসিতোর প্রথম শট বাইরে চলে যায়। এরপর ব্রায়ান ক্রিস্তান্তে ক্রসবারে আঘাত করেন এবং বাজরাকতারেভিচের শট জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার নিচ দিয়ে জালে জড়ালে ইতালির বিদায় নিশ্চিত হয়।
স্পষ্টতই ভেঙে পড়া ইতালির কোচ জেন্নারো গাত্তুসো বলেন, আমি মনে করি না ছেলেরা এমন আঘাত পাওয়ার যোগ্য ছিল। তারা যেভাবে খেলেছে, চেষ্টা করেছে এবং হৃদয় দিয়ে লড়েছে, আমি তাদের নিয়ে গর্বিত। এটা মেনে নেওয়া কঠিন। তিনি আরও বলেন, নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলা এখন গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবে ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান গাব্রিয়েলে গ্রাভিনা জানান, তিনি গাত্তুসোকে কোচ হিসেবে থাকতে বলেছেন এবং নিজেও পদত্যাগ করবেন না।
ইতালি এখন প্রথম বিশ্বকাপজয়ী দল, যারা টানা তিনটি বিশ্বকাপে জায়গা করতে ব্যর্থ হয়েছে। ২০১৮ সালে সুইডেন এবং চার বছর আগে উত্তর মেসিডোনিয়ার কাছে হারার পর এটি তাদের টানা তৃতীয় প্লে-অফ ব্যর্থতা। অন্যদিকে বসনিয়া দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে উঠেছে, ২০১৪ সালের পর প্রথমবার। ঐতিহাসিক এই জয়ের পর দর্শকরা মাঠে নেমে আনন্দ উদযাপন করেন। বসনিয়ার কোচ সার্গেই বারবারেজ বলেন, এরা চরিত্রবান খেলোয়াড়। আমরা তাদের নিয়ে গর্বিত। আমি তাদের বলেছি, আমাদের প্রতি দুই বছর অন্তর কোনো না কোনো টুর্নামেন্টে যেতে হবে। ম্যাচের আগে বসনিয়া ওয়েলসকে হারানোর পর কিছু ইতালি খেলোয়াড়কে উদযাপন করতে দেখা গিয়েছিল, যা পরে তাদের পরাজয়ের পর আরও বোকামি বলে মনে হয়েছে।
