শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞ

ট্রাইব্যুনালের মামলায় সাবেক ডিআইজি জলিল কারাগারে

ফন্ট সাইজ:

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল জলিল মণ্ডলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একইসঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৫ই এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ মহিতুল হক এনাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন।
২০১৩ সালে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের হত্যা-নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ মামলার আসামি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অনেকে।
এদিন বেলা ১২টায় বিচারক এজলাসে প্রবেশ করেন। পরে প্রসিকিউটর আব্দুর সাত্তার পালোয়ান ট্রাইব্যুনালকে বলেন, মামলা নং- ১৫/২৫ এর প্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল গত বছরের ১৪ই মে ১২ জন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। গতকাল মামলার ২ নম্বর আসামি আবদুল জলিল মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। প্রসিকিউশন এই আসামিকে কারাগারে প্রেরণের আবেদন করছে। পরে, বিচারক আসামির কাঠগড়ায় থাকা আব্দুল জলিল মণ্ডলকে তার পরিচয় জিজ্ঞেস করেন। এ সময় বিচারক আসামিকে জিজ্ঞেস করেন, আপনার নাম আবদুল জলিল মণ্ডল কিনা এবং আপনি ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (ডিআইজি) ছিলেন কিনা। এ সময় আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে হ্যাঁ সূচক জবাব দেন জলিল মণ্ডল। পরে বিচারক বলেন, ‘দ্য অ্যাকিউজড শুড বি সেন্ট ইমিডিয়েটলি টু কাস্টডি’ (অভিযুক্তকে অবিলম্বে কারাগারে প্রেরণ করা হোক)। উল্লেখ্য, আব্দুল জলিল ২০১৩ সালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ছিলেন। এরপর তাকে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার করা হয়। সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমণ্ডির বাসা থেকে তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গ্রেপ্তার করে।
এদিকে, শুনানি শেষে চিফ প্রসিকিউটরের আমিনুল ইসলাম নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আব্দুল জলিল মণ্ডল, যিনি আজকে গ্রেপ্তার হয়েছে, উনি শাপলা চত্বর হত্যা মামলার মেইন কুশীলব। তার বিরুদ্ধে আমরা অনেক আগেই ওয়ারেন্ট ইস্যু করেছিলাম। তাকে আমরা খুঁজে বেড়াচ্ছিলাম। অবশেষে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং সেই মামলায় আজকে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যে শাপলা চত্বর মামলার তদন্তকার্য প্রায় শেষ পর্যায়ে। আমরা আশা করছি যে খুব সহসাই আমাদের তদন্তকার্য শেষ হবে এবং এই মামলায় আমরা রিপোর্ট দাখিলের সাপেক্ষে ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ আমরা দাখিল করতে সক্ষম হবো। এই ঘটনায় কতো মানুষ মারা গেছে, খুন হয়েছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মৃত ব্যক্তিদের তালিকাও পেয়েছি, আরও আমরা অনুসন্ধান করছি, কেউ আছে কিনা। এখন পর্যন্ত ১৫-২০ জন মৃতের ব্যাপারে তথ্য পেয়েছি বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।
যত ক্রসফায়ার আগে হয়েছে সবগুলোই কি এই ট্রাইব্যুনালে বিচার হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এইটা একটা কমন ডিজাইনে সারা বাংলাদেশে এই ক্রসফায়ারের মতো অমানবিক কর্মকাণ্ড তৎকালীন সময়ে সরকার তারা করেছে। এইটা আমাদের যে মানবতাবিরোধী অপরাধ আইনের তিনের/দুই ধারা (৩/২), যেটাতে আছে। যে সিস্টেমেটিক ক্রাইম অথবা ওয়াইডস্প্রেড অ্যাটাকের কথা যেটা আইনে বলেছে এই টোটাল যে ক্রসফায়ারে সারা বাংলাদেশে যে হত্যাকাণ্ডগুলো হয়েছে, এই সবগুলোই সিস্টেমেটিক অথবা ওয়াইডস্প্রেড অ্যাটাকের আওতাভুক্ত। তিনি বলেন, এইটা একটা মেটিকুলাস ডিজাইন বা কমন ডিজাইনে তারা প্রত্যেক জায়গায় যাদেরকে তারা টার্গেট করেছে, যারা সেই সরকারের মতের সঙ্গে অমিল হয়েছে বা স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতের অমিল হয়েছে, তারাই পুলিশকে ব্যবহার করেছে, পুলিশ আবার তাদের সঙ্গে সহযোগী হয়েছে। এবং তারা তাদেরকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গেছে, অস্ত্র উদ্ধারের নাটক করেছে, সেখানে তাদেরকে ক্রসফায়ার করে একটা মিথ্যা স্টোরি তারা জাতির সামনে বলেছে।
আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, ইতিমধ্যে তদন্ত সংস্থাকে নির্দেশনা দিয়েছি যে সারা বাংলাদেশে কতোগুলো ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে, যতগুলো ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে, আমরা তার একটা পরিসংখ্যান নিচ্ছি। সবগুলো কেসের কপি আমরা সংগ্রহ করছি। যারা যেভাবে সেই মামলাগুলো হয়েছে, সেগুলো আমরা যাচাই-বাছাই করবো। একটা কমিটি আমরা গঠন করে দিচ্ছি, সেটা যাচাই-বাছাই করে এই অপরাধগুলোর মধ্যে যেগুলো আমাদের ট্রাইব্যুনালের বিচারের আওতাভুক্ত হবে, এই সবগুলো মামলা আমরা তুলে নিয়ে আসবো এবং আমাদের এই ট্রাইব্যুনালের বিচারের ব্যবস্থা করবো।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন