রাজনৈতিক বিরোধের জেরে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে ক্রসফায়ারে হত্যার ঘটনায় সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এবং তৎকালীন পুলিশ সুপারসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল-২-এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য ১৫ই এপ্রিল দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এদিন ধার্য করেন। মামলার অন্যান্য অভিযুক্তরা হলেন- বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার এ.কে.এম. এহসানুল্লাহ, উজিরপুর থানার সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মাহাবুল ইসলাম এবং জসিম উদ্দিন।
মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, ৮২ বছর বয়সী আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, যিনি বরিশাল-১ আসনের ৫ বারের এমপি এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। এ ছাড়া তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই। মামলায় সহ-অভিযুক্ত তৎকালীন পুলিশ সুপার এ.কে.এম. এহসানুল্লাহ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা দুই নিরস্ত্র বেসামরিক ব্যক্তি টিপু ও কবিরকে অবৈধভাবে আটক, নির্যাতন ও হত্যার পরিকল্পনা করেন এবং তাদের নির্দেশে অধস্তন পুলিশ সদস্যরা গুলি করে হত্যা করে। ৪ জন অভিযুক্তের মধ্যে উজিরপুর থানার সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মাহবুবুল ও জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আটক আছেন, আর আবদুল্লাহসহ দু’জন পলাতক রয়েছেন।
শুনানি শেষে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনা ধামাচাপা দিতে সেসময় পুলিশের করা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনই এখন তাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় আইনি হাতিয়ার হিসেবে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আবদুল্লাহসহ চারজনের বিরুদ্ধে একটি ‘গুরুতর অপরাধের’ অভিযোগ আনা হয়েছে। ভুক্তভোগী ছাত্রদল নেতা টিপু হাওলাদার এবং জাসাস সংগঠক কবির মোল্লার সঙ্গে আবদুল্লাহর রাজনৈতিক বিরোধ ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি তাদের ‘ক্রসফায়ার’ দেখিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন এবং তা বাস্তবায়নের জন্য তৎকালীন পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন। ভুক্তভোগীদের প্রথমে ঢাকায় একটি সাজানো অগ্নিসংযোগ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে তাদের বরিশালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে আগৈলঝাড়া থানার পুলিশকে তাদের হত্যার নির্দেশ দেয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। কিছু কর্মকর্তা প্রথমে অস্বীকৃতি জানালেও পরে অন্যরা তা কার্যকর করেন।
পরবর্তীতে রাত প্রায় ২টার দিকে তাদের আগৈলঝাড়ার একটি স্থানে নিয়ে দু’জনকে ‘নৃশংসভাবে হত্যা’ করা হয় এবং পরে ঘটনাটিকে ‘ক্রসফায়ার’ হিসেবে সাজানো হয়। প্রসিকিউটর আরও বলেন, পুলিশ নিজেরাই এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এন্ট্রি করে এবং ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে, যেখানে গুলিতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়। তিনি বলেন, প্রমাণে দেখা যায় ভুক্তভোগীরা পুলিশের হেফাজতে ছিলেন এবং সেখানেই তাদের হত্যা করা হয়েছে। এর সম্পূর্ণ দায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর বর্তায়। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এ ঘটনার জন্য দায়ীদের ট্রাইব্যুনালের সামনে জবাবদিহি করতে হবে। আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, তদন্তকারীরা জিডি এন্ট্রি ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনসহ পর্যাপ্ত নথিপত্র ও ফরেনসিক প্রমাণ পেয়েছেন, যা হেফাজতে হত্যার ইঙ্গিত দেয়। উল্লেখ্য, নিহত টিপু সুলতান আগৈলঝাড়ার গৈলা ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক (একাংশের দাবি তিনি গৈলা কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন) এবং কবির হোসেন মোল্লা উপজেলা জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
বরিশালে দু’জনকে ক্রসফায়ারে হত্যা
হাসানাত আবদুল্লাহসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল
স্টাফ রিপোর্টার
১ এপ্রিল (বুধবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
