মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে দেশের জ্বালানি খাতে। আর এই পরিস্থিতিকে পুঁজি করে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গড়ে উঠেছে চোরাই তেলের শক্তিশালী সিন্ডিকেট। ফিলিং স্টেশনগুলোতে যখন জ্বালানি সংকটে হাহাকার, তখন খোলা বাজারে উল্টো চিত্র। চড়া দামে অবাধে বিক্রি হচ্ছে পেট্রোল ও অকটেন। উপজেলার অন্তত ১৫টি ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ বন্ধ বা সীমিত আকারে চলছে। ডিজেলের সংকটও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে যানবাহন চালকদের। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। তবে পাম্পে সংকট থাকলেও খোলাবাজারে যেন তেলের বন্যা। উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে দেড় থেকে দুই শতাধিক অস্থায়ী দোকান, যেখানে পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার ২০০ থেকে ২৫০ টাকা এবং অকটেন ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই তেলের বড় একটি অংশই চোরাই পথে আসছে। নদীপথে চলাচলকারী পণ্যবাহী জাহাজ থেকে তেল চুরি, সড়কে চলাচলকারী যানবাহন থেকে পাচার এবং বিভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহ করা এসব জ্বালানি খোলাবাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। এমনকি অভিযোগ রয়েছে, কিছু ডিপো ও ফিলিং স্টেশন থেকেও তেলের একটি অংশ সরাসরি এই অবৈধ বাজারে চলে যাচ্ছে। শিল্পাঞ্চল হওয়ায় রূপগঞ্জে জ্বালানির চাহিদা তুলনামূলক বেশি। সেই চাহিদাকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ তেল চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, অবৈধ মজুত ও চোরাই তেলের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন ফিলিং স্টেশনে তেলের সংকট থাকলেও খোলা বাজারে কীভাবে অবাধে বিক্রি হচ্ছে চোরাই জ্বালানি? দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এ সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
