আক্ষেপে এশিয়ান কাপের বাছাইয়ের মিশন শেষ বাংলাদেশের

আক্ষেপে এশিয়ান কাপের বাছাইয়ের মিশন শেষ বাংলাদেশের

ফন্ট সাইজ:

গ্যালারিতে আসা প্রবাসী সমর্থকদের সামনে পুরো ম্যাচেই দারুণ ফুটবল খেললো বাংলাদেশ। তবে ভাগ্য সহায় না থাকায় দুর্ভাগ্যের হারেই এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের মিশন শেষ করেছে বাংলাদেশ। বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে হামজা-শমিতরা। খেলার ধারার বিপরীতে প্রথমার্ধের শেষ দিকে গোল হজম করে বসলো হাভিয়ের কাবরেরার দল। স্বাগতিক সিঙ্গাপুরের জন্য জয়টা প্রত্যাশার চেয়েও একটু কঠিনই হয়েছে, তবে দিনশেষে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছেড়েছে তারা। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন হারিশ স্টুয়ার্ট। ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে থেকে বাছাই পেরিয়ে মূলপর্বে জায়গা করে নেয়া সিঙ্গাপুর প্রথম লেগে বাংলাদেশের বিপক্ষে জিতেছিল ২-১ গোলে। বাছাইপর্বের ছয় ম্যাচে দুই ড্র আর এক জয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে তৃতীয় স্থানে থেকে মিশন শেষ বাংলাদেশের। তবে শেষটা ভালো করতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন বাংলাদেশের ফুটবালরা। ছয় হাজার প্রবাসীদের সমর্থনে পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় বাংলাদেশের চেহারা। প্রেসিং ফুটবল। দুই প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ। একের পর এক ঢেউ তুলে সিঙ্গাপুরের রক্ষণে চাপ বাড়ায় লাল-সবুজরা। গোলের খোঁজে ৬১ মিনিটে ফাহিমের জায়গায় নামানো হয় শাহরিয়ার ইমনকে। এরপর ৭২ মিনিটে ফাহমিদুল ও মোরসালিনের বদলে মাঠে আসেন বিশ্বনাথ ঘোষ ও মিরাজুল ইসলাম। বাংলাদেশের এই চাপের মুখে খানিকটা নড়বড়ে হয়ে পড়ে সিঙ্গাপুর। ৬১ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠে বসে পড়েন ইরফান ফান্দি। পাঁচ মিনিট পর তাঁকে তুলে নিতে হয়। ইখসান ফান্দিকেও বদলি করতে বাধ্য হন কোচ। তারপর আসে ম্যাচের সবচেয়ে বড় মুহূর্ত। ৭৯ মিনিট। মাঝমাঠ থেকে পাওয়া ফ্রি-কিকে হামজা চৌধুরীর দারুণ ক্রস। বক্সে বল পেয়ে যান মিরাজুল। শট নেন। কিন্তু বল লেগে ফিরে আসে পোস্টে। সমতায় ফেরার সেরা সুযোগটা সেখানেই হাতছাড়া। শেষদিকে আরেকবার চেষ্টা করেন শমিত সোম। ৮৫ মিনিটে তার শট জমা পড়ে গোলরক্ষকের গ্লাভসে। এরপর যোগ করা চার মিনিটেও আর কিছু বদলায়নি।
এর আগে দু’টি পরিবর্তন এনে সিঙ্গাপুর ম্যাচের একাদশ সাজান কাবরেরা। ভিয়েতনামের বিপক্ষে সবশেষ প্রীতি ম্যাচে পোস্ট সামলানো মেহেদী হাসান শ্রাবণের জায়গায় ফিরেন নিয়মিত গোলারক্ষক মিতুল মারমা। আক্রমণভাগে মিরাজুল ইসলামের বদলে সুযোগ মেলে শেখ মোরসালিনের। ভিয়েতনাম ম্যাচের মতো এ ম্যাচেও সেরা একাদশে ঠাঁই মেলেনি জামাল ভূঁইয়ার। এদিন ম্যাচের সপ্তম মিনিটে মিনিটে ডান দিক থেকে ফাহমিদুলের বাড়ানো ক্রস ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের কাছে পৌঁছানোর আগেই ক্লিয়ার করেন হ্যারি স্টুয়ার্ট। পঞ্চদশ মিনিটে সাদউদ্দিনের ক্রসে শোমিত হেড করলেও পোস্টের অনেক বাইরে দিয়ে যায়। ২০তম মিনিটে ইখসান ফান্দির জোরাল শট বলের লাইনে থাকায় আটকান মিতুল। একটু পর রিহান স্টুয়ার্টের ক্রস ফিরিয়ে দলকে স্বস্তিতে রাখেন এই গোলরক্ষক। ২৪তম মিনিটে সোহেল রানার দূরপাল্লার শট উড়ে যায় ক্রসবারের উপর দিয়ে। বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ে ৩১তম মিনিটে। মাঝমাঠ থেকে আসা ক্রস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গ্লেইন কিউইর শট মিতুল ঝাঁপিয়ে ফেরালেও পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে পারেননি। বল ইখসান ফান্দির পা হয়ে চলে যায় হ্যারিসের কাছে, নিখুঁত কোণাকুণি শটে মিতুলকে পরাস্ত করেন তিনি। ৩৯তম মিনিটে সমতার সুবর্ণ সুযোগ পায় বাংলাদেশ। মোরসালিনের শট সাফওয়ান বাহার উদ্দিন ব্লক করার পর সুযোগ আসে ফাহিমের সামনে, কিন্তু তিনি শট নেয়ার আগে উঠে দাঁড়ানো বাহার উদ্দিনের গায়ে লেগে পড়ে যান। বাংলাদেশ পেনাল্টির আবেদন করলেও সাড়া মেলেনি। একটু পর হামজার ফ্রি কিক হেডে ফেরান এক ডিফেন্ডার, সাদউদ্দিনের শটও যায় পোস্টের বাইরে। তবে এশিয়ান কাপে কোয়ালিফাই করতে না পারলে বাছাইপর্বে হামজা শমিতই প্রাপ্তি বাংলাদেশের।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন