অস্ট্রেলিয়া-ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশের জাল ভিসা তৈরি করে প্রতারণা ও মানব পাচারকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। একইসঙ্গে তাদের কাছ থেকে ভিসা তৈরির ডিভাইস ও বিপুল পরিমাণ জাল ভিসা জব্দ করা হয়েছে। গতকাল বিকালে র্যাব-৪ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানান ইউনিটটির কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহীনুর কবির।
তিনি বলেন, সম্প্রতি আমরা চায়না ও রাশিয়াতে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করে মানব পাচারকারী সংঘবদ্ধ চক্রকে গ্রেপ্তার করি। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার এক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৪ এর একটি যৌথ আভিযানিক দল রাজধানীর কাওরান বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। ওই সময় মো. সাকিউর রহমান ওরফে সুমন (৩৭) এবং মো. কোরবান আলী (৩০) নামে অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপসহ বিভিন্ন উন্নত দেশে জাল ভিসা তৈরি করে প্রতারণা ও মানব পাচারকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে জানা গেছে, এই সুমন ও কোরবান আলী ‘এসআরএস ইন্টারন্যাশনাল বিডি’ নামক ভিসা প্রসেসিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপসহ বিভিন্ন উন্নত দেশে বৈধভাবে লোক পাঠায় এবং তাদেরকে সেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয় বলে মানুষকে প্রলোভন দেখায়। আত্মীয়ের মাধ্যমে এমনই প্রলোভনের শিকার হয়ে এক ভুক্তভোগী সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সুমন ওই ভুক্তভোগীকে ২০ লাখ টাকার চুক্তিতে অস্ট্রেলিয়াতে চাকরি পাইয়ে দেয়ার প্রস্তাব দেয়। সরল বিশ্বাসে তাদের প্রস্তাবে রাজি হয় ওই ভুক্তভোগী। পরবর্তীতে সে বিভিন্ন সময়ে সর্বমোট ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা নগদ ও ব্যাংকের মাধ্যমে সুমনকে দেয়। টাকা পাওয়ার পর সুমন ও কোরবান আলী অল্পদিনের মধ্যেই তাকে অস্ট্রেলিয়ার ভিসা পাইয়ে দিবে বলে আশ্বস্ত করে এবং ‘অস্ট্রেলিয়া গ্রুপ’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করে। এরপর গত ২২শে মে সুমন ‘ভিএফএস গ্লোবাল’ নামে একটি অফিসে নিয়ে তার ফিঙ্গার প্রিন্টও নেয়। একইসঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার ভিসা ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত কয়েকটি কাগজ দেয় ভুক্তভোগীকে। এরপর থেকে প্লেনের টিকিট দেয়ার কথা বলে একাধিক তারিখ দিলেও তা বারংবার পরিবর্তন করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা ভুক্তভোগীকে প্লেনের টিকিট বাবদ আরও ৯৬ হাজার টাকা প্রদান করতে চাপ দিতে থাকে। তখন ভুক্তভোগী নিরুপায় হয়ে বিকাশের মাধ্যমে তাদেরকে ৫০ হাজার টাকা পাঠায়। এরপরও প্লেনের টিকিট না দিয়ে একের পর এক তারিখ পরিবর্তন করে তাকে ঘোরাতে থাকে। একপর্যায়ে তাদেরকে ফোন করে দেখা করার কথা বলে ভুক্তভোগী। কিন্তু কোনোভাবেই তারা দেখা করেনি। পরে অস্ট্রেলিয়া গ্রুপ নামে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, এই সুমন চক্র আরও অনেক মানুষকে বিদেশে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকেও বিপুল পরিমাণের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। এই ঘটনায় তিনি আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার পরই ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাব-৪। এরই প্রেক্ষিতে সুমন ও কোরবান আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে- তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণার মাধ্যমে অনেক বাংলাদেশিদের ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়াসহ উন্নত দেশে প্রেরণ করার নামে টাকা আত্মসাৎ করে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদেরকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া-ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের জাল ভিসা তৈরি চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার
স্টাফ রিপোর্টার
৩১ মার্চ (মঙ্গলবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
