পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অন্য সব দলের নেতাদের থেকে বেশ কয়েক ধাপ এগিয়ে রয়েছেন। গত সপ্তাহে উত্তরবঙ্গ থেকে তিনি প্রচার শুরু করেন। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী এবার প্রচারে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে আক্রমণ করেছেন। সোমবার মমতা দক্ষিণবঙ্গে তিনটি জনসভায় বলেন, দিল্লির জমিদারেরা আমার হাত থেকে সব ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে। এটা এক মাস। তার পরে মনে রাখবেন, যতই করো চেষ্টা, মিটবে নাকো তেষ্টা। তৃণমূল আসছে, তৃণমূল আসবে। মানুষ যতক্ষণ থাকবে, জোড়াফুল থাকবে। জয় নিয়ে প্রত্যয়ী মমতা বলেন, ভোট হয়ে গেলে পশ্চিমবঙ্গে জিতে সকলকে এক করে সারা দেশের মানুষকে নিয়ে দিল্লি দখল করতে হবে।
নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার পর থেকে যেভাবে প্রশাসনের শীর্ষ অফিসারদের বদল করেছেন তাতে মমতা রীতিমতো ক্ষুব্ধ। এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই অডিশন নানা স্তরের পুলিশ ও প্রশাসনের অফিসারদের বদল করছেন। এই রদবদল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এরই প্রেক্ষিতে মমতা ক্ষমতা কেড়ে নেয়ার অভিযোগ করেছেন। ভোটার তালিকা সংশোধনের অজুহাতে নাম বাদ দেয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলে প্রচারে কমিশনের বিরুদ্ধে বিজেপি’র কথায় চলার অভিযোগ করেছেন। ইচ্ছাকৃতভাবে সংখ্যালঘু ও মহিলাদের নাম কেটে দেয়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। সোমবার মেদিনীপুরের ডেবরা, পাঁশকুড়ার জনসভা থেকে বিজেপিকে আক্রমণের নিশানা করে মমতা বাংলাভাষীদের উপরে অত্যাচারের অভিযোগ থেকে শুরু করে মাছ-মাংস খাওয়ায় বাধা দেয়ার অভিযোগ করেন।
বাংলাভাষীদের উপরে অত্যাচারের অভিযোগ নিয়েও বিজেপিকে আক্রমণ করে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গের বাইরে যান, বাংলায় কথা বললে আপনাকে হোটেলে থাকতে দেয়া হবে না। বাংলায় কথা বললে আপনার ওপর অত্যাচার হবে, পিটিয়ে খুন করা হবে। যেখানে বিজেপি আছে, সেখানে মাছ খেতে দেয় না। মাছের দোকান বন্ধ। মাংসের দোকান বন্ধ। ওরা বড় অন্ধ।
ধর্মকে বিক্রির অভিযোগ জানিয়ে মমতা বলেন, এরা ধর্মের নামে প্রচার করে। আর ধর্মকে বিপথে ফেলে দেয়। এরা কোনো ধর্ম মানে না। এরা বকধার্মিক। ধর্মকে বিক্রি করে। আমরা ধর্মকে ঘরে রাখি, সম্মান করি। এরা ধর্ম বেচে খায়। আর আমরা মানবিকতার জন্ম দিই। এটাই ওদের সঙ্গে আমাদের তফাৎ। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী বিজেপি যাতে নির্বাচনে কোনো কারচুপি করতে না পারে সেজন্য মানুষকে আগে থেকেই সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। এদিকে, মমতার প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দাবি করেছে বিজেপি। এই দাবি নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু এবং সুকান্ত মজুমদার নির্বাচন কমিশনের অফিসে যান। অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ভোটের পর রাজ্যে বিজেপি করি না বলে মুচলেকা দিতে বাধ্য করা হবে মানুষজনকে। নির্বাচন কমিশনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উস্কানিমূলক এক মন্তব্য ঘিরে সম্প্রতি রিপোর্ট তলব করেছে।
নির্বাচনী প্রচারণায় মমতা
দিল্লির জমিদাররা আমার সব ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে
পরিতোষ পাল, কলকাতা
৩১ মার্চ (মঙ্গলবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
