জ্বালানি তেল আমদানি

যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শে রাশিয়াকে চিঠি, ফুয়েল কার্ড চালুর উদ্যোগ, তেল মজুতকারীদের ধরতে লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা

ফন্ট সাইজ:

রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্যাংশন ওয়েভার’ চেয়েছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শেই রাশিয়াকে চিঠি দেয়া হয়েছে। দুই মাস অথবা ৬ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানির জন্য স্যাংশন ওয়েভার চাওয়া হয়েছে। ওদিকে ইতিমধ্যে সারা দেশে অবৈধভাবে মজুত করা ২ লাখ ৮ হাজার ৬৫০ টন তেল উদ্ধার করেছে সরকার। ফুয়েল কার্ড চালুর উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। এ জন্য একটি অ্যাপ তৈরির কাজ চলছে। অকটেন ও পেট্রোলচালিত যানের জন্য প্রাথমিকভাবে এই কার্ডের পরিকল্পনা হচ্ছে। অবৈধ তেল মজুতকারীদের ধরতে সরকার ১ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে। গতকাল সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী এসব তথ্য জানিয়েছেন।

মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও অন্যান্য উৎস থেকে তেল আমদানিতে কাজ করছে সরকার। ভারত থেকে জুন পর্যন্ত ৬০ হাজার টন ডিজেল পাওয়ার কথা। এ পর্যন্ত ২২ হাজার টন ডিজেল ভারত থেকে পাওয়া গেছে। এর বাইরে ইন্দোনেশিয়া থেকে তেল আমদানির কথা চলছে। মনির হোসেন চৌধুরী জানান, এবার ঈদ উপলক্ষে মার্চ মাসে, ২০২৫ সালের মার্চের চেয়ে ৪০ শতাংশ বেশি জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে। সাপ্লাই চেইনে কোনো সমস্যা নেই। সরবরাহ যথার্থ রেখেছে মন্ত্রণালয়। তিনি জানান, সারা দেশে অবৈধভাবে মজুত করা ২ লাখ ৮ হাজার ৬৫০ টন তেল উদ্ধার করা হয়েছে। ফুয়েল কার্ডে ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে। এ জন্য একটি অ্যাপ তৈরির কাজ চলছে। অকটেন ও পেট্রোলচালিত যানের জন্য প্রাথমিকভাবে এই কার্ডের পরিকল্পনা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ৩০শে মার্চ পর্যন্ত ডিজেল মজুত আছে ১ লাখ ৩৩ হাজার টন। ৩০শে মার্চ ও ৩রা এপ্রিল দু’টি কার্গো থেকে পাওয়া যাচ্ছে ৫৪ হাজার ৬০০ টন ডিজেল। সব মিলিয়ে এপ্রিলে যুক্ত হবে ১ লাখ ৫০ হাজার টন ডিজেল। মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, দেশের জ্বালানির মোট চাহিদার ৬৩ শতাংশ ডিজেল- এর সংকট নেই। অকটেন নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, সেটি মনস্তাত্ত্বিক।

তেল মজুতকারীদের ধরতে ১ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা: সরকার জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও পাচার রোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যারা এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়ে সহায়তা করবেন, তাদের জন্য সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও চক্র অবৈধভাবে তেল মজুত ও পাচারের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরি করার চেষ্টা করছে। ফলে সাধারণ জনগণকে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে এবং বাজারে অস্থিতিশীলতা দেখা দিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে, সরকার সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করে এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধ করতে চায়। নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হবে। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগ নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, ‘অবৈধ মজুতদারীদের জন্য আমরা পাম্পগুলোতে বাড়তি সরবরাহ করেও চাহিদা পূরণ করতে পারছি না। মার্চের ১ থেকে ৫ তারিখ পর্যন্ত আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ সরবরাহ করেছি। আগের বছর এই সময় দৈনিক ১২ হাজার ৭০০ টন তেল সরবরাহ করা হয়েছিল।

এই বছরের একই সময়ে দৈনিক ২৪ হাজার টনের বেশি তেল সরবরাহ করা হলেও সামাল দেয়া যায়নি। কারণ একদিকে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে তেল নিতে পাম্পে ভিড় করছেন, অন্যদিকে অবৈধ মজুতদাররা তেল মজুত করছেন। ফলে গত ৬ই মার্চ থেকে ফের আগের বছরের মতো তেল সরবরাহ দেয়া হয়। পরে ঈদের আগে আগে আবার ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি তেল সরবরাহ দেয়া হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি দেখা যায়নি। চেয়ারম্যান বলেন, এখন প্রতিটি জেলায় ‘ভিজিল্যান্স টিম’ গঠন করে নজরদারি করা হচ্ছে। পাম্পগুলোতে তদারকি বাড়াতে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ দেয়া হয়েছে। পাম্পে কতোটুকু তেল বরাদ্দ পাওয়ার কথা ও কতোটুকু পাচ্ছে এগুলো তদারকি করবেন ট্যাগ অফিসাররা। পাশাপাশি সারা দেশেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জরিমানা আদায়ের সঙ্গে কারাদণ্ডও দেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে যারা অবৈধ মজুতদারির তথ্য দিচ্ছে, তাদের এক লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন