জ্বালানিমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি

আমির হামজার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানি মামলা

ফন্ট সাইজ:

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে ‘আপাদমস্তক নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী’ বলে মন্তব্য করায় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর আমলী আদালতে এড. এসএম নাজমুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। বিচারক সুমন কুমার কর্মকার মামলাটি আমলে নিয়ে আদেশের অপেক্ষায় রেখেছেন।
চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত পিপি হুমায়ূন কবীর এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ইসলামী বক্তা আমির হামজার ওই মন্তব্য জাতীয়তাবাদী চেতনায় বিশ্বাসী মানুষের আবেগ ও মর্যাদাকে আঘাত করেছে। এতে প্রায় ১০০ কোটি টাকার মানহানি হয়েছে। তাই এড. এসএম নাজমুল ইসলাম আইনি প্রতিকার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। মামলার বাদী এড. এসএম নাজমুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ একজন সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান। তিনি সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও কবরস্থানের উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত। গত ২৬শে মার্চ সিরাজগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসন আয়োজিত মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। তার ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আমির হামজা জ্বালানিমন্ত্রীকে ‘আপাদমস্তক নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী’ বলে তার সম্মান নষ্ট করেছেন। এ কারণে আমির হামজার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ৫০০ ধারায় ১০০ কোটি টাকার মানহানি মামলা দায়ের করেছি।

এর আগে শুক্রবার কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় মসজিদে জুমার খুতবার আগে আলোচনায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রীর দেয়া এক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আমির হামজা বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একজন নাস্তিক ও আপাদমস্তক ইসলামবিদ্বেষী। পরবর্তীতে তার ওই বক্তব্যের এক মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আমির হামজা বলেন, আমি সকাল থেকে মেডিকেলে ছিলাম। পাঁচ লিটারের বেশি তেল দেয়া হচ্ছে না জেনারেটর চালাতে। একটি বড় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মানুষের জীবন এখন বিপন্ন। এ ধরনের অযোগ্য মানুষদের দায়িত্ব না দিয়ে যোগ্যদের বসানো হলে এমন হাহাকার লাগতো না। এই ভিডিও ক্লিপটি ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন