ক্রীড়াবিদের মধ্যে ক্রিকেটাররাই নিয়মিত বেতন পেয়ে থাকেন। নারী ফুটবলাররা বেতনের আওতায় এলেও পরিমাণ বেশি না। মাঝে মধ্যে সেটাও বকেয়া পড়ে যায়। এদের বাইরে অন্য ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড়দের আর্থিক অবস্থা খুবই নাজুক। খেলার পাশাপাশি জীবন-জীবিকার তাগিদে অন্য পেশায় মন দিতে হয় তাদের। তবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই খেলাকে পেশা হিসেবে তৈরি করার ঘোষণা দিয়েছিলেন আমিনুল হক। তার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে প্রথমবারের মতো ক্রীড়া ভাতা চালু করেছে সরকার। গ
তকাল নিজ কার্যালয়ে ক্রীড়া ভাতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রথম পর্যায়ে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে ১ লাখ টাকা করে ভাতা এবং ক্রীড়া কার্ড দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি গত এক বছরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য আনা ক্রীড়াবিদদের আর্থিকভাবে পুরস্কৃতও করেছেন সরকার প্রধান। এখন থেকে বিভিন্ন খেলার জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা করে ভাতা পাবেন। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, এপ্রিল থেকে পর্যায়ক্রমে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে বেতনকাঠামোর আওতায় আনা হবে। সরকারের এমন পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন দেশের ক্রীড়াবিদেরা। তারা বলছেন, এ উদ্যোগের ফলে খেলোয়াড়দের নিজেদের মধ্যে যেমন প্রতিযোগিতা হবে, একইভাবে সবাই চাইবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ভালো করতে।
গত নভেম্বরে ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে টেবিল টেনিসের মিশ্র দ্বৈতে রুপাজয়ী খই খই সাই মারমা বলেন, ‘এখন তো নিজেদের মধ্যেই প্রতিযোগিতা হবে। আমরা যারা এই তালিকায় আছি, তারা চেষ্টা করবো পারফরম্যান্স ধরে রাখতে। আবার যারা তালিকার বাইরে, তারাও চাইবে ভালো করে ভাতার আওতায় আসতে। তবে এই চ্যালেঞ্জকে আমরা ইতিবাচক হিসেবেই নিচ্ছি।’ মিশ্র বিভাগে খই খইয়ের সঙ্গে পদকজয়ী আরেক টিটি খেলোয়াড় জাভেদ আহমেদ। দেশের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হলেও জীবনধারনের জন্য খেলার চেয়ে সৌখিন খেলোয়াড়দের কোচিং করিয়েই বেশি সময় কাটে তার। সরকারের মাসিক ভাতার কারণে এখন তিনি খানিকটা নির্ভার জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের অনেক দিনের চাওয়া ছিল পেশা হিসেবে খেলাকে নিতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এটা ক্রীড়াঙ্গনের চেহারা বদলে দেবে। ক্রীড়াঙ্গনের ফলাফল বদলে দেবে। আমরা এটা এখন পেশা হিসেবে নিতে পারবো। আগে পিছুটান ছিল। এই জায়গাটা এখন আর থাকছে না।’ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ চার মাস পর খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করবেন। যারা পারফরম্যান্স করতে পারবেন না তারা এই ভাতার আওতা থেকে বাদ পড়ে যাবেন।
নতুনরা সুযোগ পাবেন। দুই দিন আগে থাইল্যান্ডে কম্পাউন্ড দলগত বিভাগে স্বর্ণ জিতেছে আরচারি। সেই দলের অন্যতম সদস্য হিমু বাছাড়। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যত অনিশ্চয়তায় কেউ আসতে চায় না। এখন ক্রীড়াবিদরা একটা ভাতার আওতায় আসায় অনেকেই তার পছন্দ অনুযায়ী খেলায় আসবে। বেশ দারুণ উদ্যোগ।’ আরচার হিমুর সঙ্গে একমত নারী ফুটসাল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। তিনি বলেন, ‘এখন যে কেউ খেলাকে পেশা হিসেবে নিতে পারবে। তাকে খেলার পাশাপাশি অন্য কোনো চিন্তা করতে হবে না। পরিবারও তাদের সন্তানের ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কায় থাকবে না।’ সুস্থ-স্বাভাবিক ক্রীড়াবিদের পাশাপাশি বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ক্রীড়াবিদরাও এই ভাতার আওতায় রয়েছেন। প্যারা অ্যাথলেট শহীদ উল্লাহ প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের জীবনযাপন অন্য রকম। চলাফেরা ও অনেক কিছুতেই খরচ বেশি। খেলার প্রতি আমাদের ভালোবাসা রয়েছে।
সরকার আমাদের ভাতা দিচ্ছে এজন্য অত্যন্ত খুশি ও কৃতজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রীর এমন উদ্যোগ সাধুবাদ জানাই।’ আর্থিক সংকটের কারণে অনেক সময় অ্যাথলেটরা খ্যাপ খেলার দিকে ঝুঁকে পড়েন। ব্যাডমিন্টন তারকা আল আমিন জুমার সেই বাস্তবতার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘আমাদের সিজনের দিকে আর তাকাতে হবে না। কারণ এত বড় একটা সম্মাননা দিয়েছে আজকে... আমাদের ইন্টারন্যাশনালে অনেক ভালো রেজাল্ট আছে। তো ইনশা আল্লাহ আমাদের জুনিয়র প্লেয়ার যারা আছে তারাও আরও আগ্রহী হবে এখন ব্যাডমিন্টন খেলার জন্য।’ আল-আমিন, হিমু, খই খইরা মনে করছেন, আর্থিক নিরাপত্তা খেলোয়াড়দের মানসিক চাপ কমাবে, যা পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে পারফরম্যান্স ধরে রাখতে উন্নত অবকাঠামো, বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও দরকার বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

Abigado
২ মাস আগেউদ্যোগটা ভাল মনে হচ্ছে।যদি তা চলমান থাকে।