বাবার ইচ্ছা ছিল দুই ভাই বাংলাদেশ দলে একসঙ্গে খেলবো

বাবার ইচ্ছা ছিল দুই ভাই বাংলাদেশ দলে একসঙ্গে খেলবো

ফন্ট সাইজ:

হকি পরিবারে জন্ম তার। বাবা আব্দুর রাজ্জাক সোনা মিয়া দেশের হকির সোনালী যুগের একজন প্রতিনিধি। যিনি ‘টাইগার’ নামেও পরিচিত। ২০১৮ সালে অন্যলোকে পাড়ি দেন সোনা মিয়া । দুই ছেলেকে রেখে যান হকি অঙ্গনে। বড় ছেলে রাসেল মাহমুদ জিমি দেশের হকির বড় তারকা। সেই পরিবার থেকে এবার জাতীয় দলে ডাক পেলেন খালেদ মাহমুদ রাকিন। দীর্ঘ ১১ বছরের অপেক্ষার পর জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। এশিয়ান গেমস বাছাই্‌পর্বের জন্য গঠন করা ১৮ সদস্যের দলে আছেন এ ডিফেন্ডার। দীর্ঘ অপেক্ষার পর একসময় ধৈর্যহারা হয়ে পড়েছিলেন রাকিন। হকি খেলা ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। বড় ভাই জিমি বুঝিয়ে-শুনিয়ে অনুশীলনে পাঠাতেন। সেই ধৈর্যের ফল পেলেন রাকিন। ২৯ বছর বয়সী হকি তারকা বলেন, ‘যখনই বাদ পড়তাম জিমি ভাই বলতো ধৈর্য ধর। চেয়েছিলাম হকি খেলা ছেড়ে দিতে। ভাইয়ের প্রেরণা ও পরিবারের সাপোর্টে খেলা চালিয়ে গেছি।’

রাকিন বয়সভিত্তিক দলে নিয়মিত খেলেছেন। ২০১৪ সালে ইয়ুথ অলিম্পিক গেমসে বাংলাদেশের হয়ে ফাইভ-এ-সাইড হকি খেলেন। পরে অনূর্ধ্ব-১৬ ও অনূর্ধ্ব-২১ দলে জায়গা ধরে রাখেন। ক্লাব পর্যায়ে মোহামেডানের প্রতিনিধিত্ব করেন। ২০১৫ সালে বিকেএসপিতে পড়ার সময় প্রথম জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পান রাকিন। তখন জাতীয় দলে খেলতেন মশিউর রহমান বিপ্লব, মামুনুর রহমান চয়নের মতো অভিজ্ঞ ডিফেন্ডাররা। বছরের পর বছর ক্যাম্পে থেকেও চূড়ান্ত স্কোয়াডে নাম ওঠেনি রাকিনের। কখনো সিনিয়রদের উপস্থিতি, কখনো নিজের পারফরম্যান্স- প্রতিবারই শেষ ধাপে এসে থেমে গেছে স্বপ্ন। অবশেষে জাতীয় দলে জায়গা পেলেন এ ডিফেন্ডার। দলে সুযোগ পাওয়া নিয়ে রাকিন বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ আমাকে সুযোগ দিয়েছেন। আরো বেশি ভালো লাগতো বাবা বেঁচে থাকলে। বাবার ইচ্ছা ছিল আমরা দুইভাইকে একসঙ্গে খেলতে দেখবেন।’

তামিম ইকবাল ও নাফিস ইকবাল বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের হয়ে মাঠ মাতালেও একসঙ্গে দুই ভাইয়ের মাঠে নামা হয়নি। তবে রাকিন স্বপ্ন দেখেন জাতীয় দলের হয়ে বড় ভাই জিমির সঙ্গে খেলবেন। ২০২৩ সাল থেকে জাতীয় দলের বাহিরে বড় ভাই রাসেল মাহমুদ জিমি। ফর্ম ও ফিটনেস থাকা সত্ত্বেও জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েন। বয়সের প্যারামিটারে জিমিকে বাদ দিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়ে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। রাকিন বলেন, ‘ইচ্ছা ছিল আমরা দুই ভাই একসঙ্গে জাতীয় দলে খেলবো। আমি আশা করি, জিমি ভাই আবারো জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পাবেন।’

অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের অনেক হকি খেলোয়াড়ই জাতীয় দলে অল্প সময়ের মধ্যে ডাক পেয়ে যান। আমিরুল ইসলাম, মেহেরাব হোসেন সামিন এর বড় উদাহরণ। কিন্তু রাকিনের সুযোগটা এলো দেরিতে। এ নিয়ে আর আক্ষেপ নেই রাকিনের। তিনি বলেন, ‘কেউ হয়তো সহজে সুযোগ পেয়ে যায়, কারো দেরি হয়। ১১ বছর অনেক কষ্ট করেছি, সেটার ফল পাওয়া অনেক আনন্দের বিষয়।’ জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে বাদ পড়ে লম্বা সময় ধরে লড়াই চালিয়ে গেছেন রাকিন। নৌবাহিনীর মাঠে দিনের পর দিন অনুশীলন করেন তিনি। ফেডারেমনের কাছে রাকিনের চাওয়া নিয়মিত যেন খেলার মধ্যে থাকতে পারেন। রাকিন বলেন, ‘সবসময় খেলা দরকার। প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগ, প্রিমিয়ার লীগ, জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ, স্কুল টুর্নামেন্ট নিয়মিত হলে ভালো হতো।’

এখানেই শেষ নয়, ভবিষ্যতে এই হকি পরিবার থেকে আসতে পারে নতুন তারকা। ছোট স্টিক নিয়ে বাসায় খেলেন জিমি ও রাকিনের ছেলে-মেয়েরা। এ নিয়ে রাকিন বলেন, ‘এখনো ঠিক করিনি কে কী হবে। বাসায় ছোট হকি আছে। আমার ছেলে-মেয়ে ও ভাতিজা হকি নিয়েই পড়ে থাকে।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন