বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ড পেরিয়ে কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেয়া সিঙ্গাপুর এবার প্রতিপক্ষ বাংলাদেশের। বাছাই পেরোনোর স্বপ্ন পূরণ না হলেও শেষটা রাঙানোর স্বপ্ন পূরণে আত্মবিশ্বাসী জামাল-শমিতরা। সিঙ্গাপুরের জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হবে এই ম্যাচ। ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে থেকে বাছাই পেরিয়ে মূল পর্বে জায়গা করে নেয়া সিঙ্গাপুর প্রথম লেগের দেখায় ঢাকায় বাংলাদেশের বিপক্ষে জিতেছিল ২-১ গোলে।
পাঁচ ম্যাচে একটি জয় ও দুই ড্রয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে তৃতীয় স্থানে আছে বাংলাদেশ। ৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে হংকং। তাদের টপকে দ্বিতীয় হয়ে বাছাই শেষ করতে হলে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই কাবরেরার দলের। বিকল্প পথে হাঁটতে চাইছেন না বাংলাদেশ কোচও। তিনি বলেন ‘আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। এখানে আসার আগে আমরা ভিয়েতনামের বিপক্ষে একটি কঠিন পরীক্ষা (ম্যাচ) দিয়ে এসেছি। ভিয়েতনাম ম্যাচের ফলটা অবশ্যই হতাশাজনক ছিল, কিন্তু সেখান থেকে অনেক ইতিবাচক দিক নেয়ার আছে। একটি উঁচু র্যাঙ্কিংয়ের দলের বিপক্ষে খেলা দলের জন্য দারুণ অভিজ্ঞতা ছিল। সেই ম্যাচ থেকে শেখা বিষয়গুলো আমরা সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে কাজে লাগাবো।’ ভিয়েতনামের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ৩-০ গোলের হার পেছনে ফেলতে চাইছেন কাবরেরা। গত বছরের জুনে হোম ম্যাচে সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে দেওয়ান হামজা চৌধুরীর অভিষেক ম্যাচ ছিল এটি। অনেক উত্তাপ-উন্মাদনা ছড়ানো ম্যাচে সিঙ্গাপুরের কাছে ২-১ গোলে হেরে যায় বাংলাদেশ।
ম্যাচটিতে রক্ষণভাগের দুর্বলতা ছিল স্পষ্ট। কোচ হাভিয়ের কাবরেরার ভুল সিদ্ধান্ত দলকে ভোগায়। যে কারণে ম্যাচে লড়াই করলেও প্রত্যাশিত ফল আসেনি। হামজার রক্ষণচেরা পাস থেকে বল পেয়ে অসাধারণ এক গোল করেছিলেন রাকিব হোসেন। কার্ডজনিত সমস্যার কারণে সিঙ্গাপুর ম্যাচে তাকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। একই কারণে খেলতে পারছেন না পরীক্ষিত ডিফেন্ডার তপু বর্মণও। এই দুই গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারের অনুপস্থিতিতে চ্যালেঞ্জ বাড়ছে বাংলাদেশের। তবে কোচ কাবরেরা বলেছেন, তার দল গত ম্যাচে কঠিন পরীক্ষা দিয়ে ফেলেছে। ফল হতাশাজনক হলেও ম্যাচের অনেক ইতিবাচক দিক রয়েছে। যে ভুলগুলো হয়েছে সিঙ্গাপুরের মাঠে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে সেগুলো শোধরানোর জন্য কাজ করেছেন কোচিং স্টাফরা।’ ভিয়েতনাম ম্যাচে একাদশে সুযোগ মেলেনি জামাল ভূঁইয়ার। মিতুল মারমার জায়গায় পোস্টের নিচে মেহেদি হাসান শ্রাবণকে খেলিয়েছিলেন কাবরেরা। আজও জামালের বদলে আার্মব্যান্ড উঠতে পারে সোহেল রানার হাতে। পোস্টের নিচে শ্রাবণেরই থাকার সম্ভাবনা বেশি।
তবে তরুণ মিরাজুল ইসলামের বদলে একাদশে ডুকতে পারেন শেখ মোরসালিন। অন্যদিকে স্বাগতিক সিঙ্গাপুরের বড় শক্তি তাদের সংগঠিত আক্রমণ ও দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক। কোচ গ্যাভিন লি’র দলে ফিরেছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ইরফান ফ্যান্দি। আক্রমণে থাকবেন ইখসান ফ্যান্দি ও শাওয়াল আনুয়ার। তবে ইনজুরির কারণে না-ও খেলতে পারেন তাদের অন্যতম ভরসা ইলহাম ফ্যান্দি। তাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে সিঙ্গাপুরের দ্রুত উইং আক্রমণ সামলানো। রক্ষণে তারিক কাজী ও শাকিল আহাদ তপুকে নিখুঁত থাকতে হবে। কারণ প্রথম লেগেও সিঙ্গাপুর বাংলাদেশের ডিফেন্সের ফাঁক কাজে লাগিয়ে দুই গোল করেছিল। অন্যদিকে বাংলাদেশের আক্রমণে গতি আনতে হবে শেখ মোরসালিন, ফাহমিদুল ইসলাম ও ইমন শাহরিয়ারকে।
