বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) দেশের ম্যাচ রেফারিদের মানোন্নয়নের লক্ষ্যে একটি বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করেছে। মূলত স্থানীয় ম্যাচ পরিচালনা ও আম্পায়ারিংয়ের মান বৃদ্ধির জন্য এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এই কর্মশালার দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। আইসিসি’র সাবেক বিশ্বসেরা আম্পায়ার সাইমন টফেল এই কর্মশালা পরিচালনা করছেন। দেশের অভিজ্ঞ এবং উদীয়মান ম্যাচ রেফারিরা এই সেশনে অংশগ্রহণ করছেন। আগামী মৌসুমকে সামনে রেখে বিসিবি’র মূল লক্ষ্যগুলোর একটি হলো রেফারিদের দক্ষতা বাড়ানো।
ক্রিকেটের নিয়মকানুন, ম্যাচ পরিচালনা পদ্ধতি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে ম্যাচ রেফারিদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে এই আয়োজনে। দেশের ক্রিকেট কাঠামোর মান কীভাবে আরও উন্নত করা যায়, সেটি নিয়েই মূলত এই কর্মশালায় কাজ চলছে। প্রায় ছয় মাস আগে বিসিবি এই প্রকল্পটি প্রথম শুরু করেছিল। এই পরিচিতিমূলক কোর্সের মাধ্যমে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করা এবং তাদের বিকাশের কাজ করা হচ্ছে। প্রকল্পের শুরুতে দেয়া বার্তার কথা স্মরণ করে সাইমন টফেল বলেন, ‘কীভাবে আমরা আরও ভালো করতে পারি, সেই প্রক্রিয়ার প্রতি সবাইকে শ্রদ্ধাশীল হতে বলেছিলাম।’
আগামী বছরের জন্য বিসিবি প্রায় ৩৫ জন সম্ভাব্য নতুন ম্যাচ রেফারি বাছাই করেছে। কর্মশালায় তাদের ব্যক্তিত্ব, দক্ষতা এবং সক্ষমতা নিবিড়ভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। কারণ এটি শুধু একটি সাধারণ দায়িত্ব পালনের বিষয় নয়। একজন ম্যাচ রেফারির ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যগুলোও এখানে অত্যন্ত বিবেচ্য। তারা মূলত মাঠে আম্পায়ারদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নকারী হিসেবে কাজ করেন। তাই বিসিবি নিশ্চিত করতে চায় যে, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষ এবং যোগ্য লোকই এই পদে আসছেন। অংশগ্রহণকারীদের শেখার আগ্রহ দেখে মুগ্ধ সাইমন টফেল এই পদের গভীরতা ও গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘ম্যাচ রেফারি হওয়া সহজ কাজ নয়। এটি অবিশ্বাস্য রকমের চ্যালেঞ্জিং এবং দায়িত্বশীল একটি পদ।’
এবারের আয়োজনের অন্যতম ইতিবাচক দিক হলো নারীদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ। কোর্সে বেশ কয়েকজন নারী রেফারি প্রতিনিধিত্ব করছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ইতিমধ্যে নারী ম্যাচ রেফারি রয়েছেন। তবে এবারের সেশনে তাদের অংশগ্রহণ ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে।
রাজধানী ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা রেফারিরা এই কর্মশালায় অংশ নিচ্ছেন। বিসিবির এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, তারা শুধু ঢাকা নয়, পুরো বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। নারী রেফারিদের অংশগ্রহণের বিষয়ে টফেল বলেন, ‘এখানে লিঙ্গ কোনো বিষয় নয়, বরং যোগ্যতাই আসল। তারা কাজটি করতে পারবে কি না, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
রেফারি প্যানেলের আকার ছোট করে পরিমাণের চেয়ে মানের দিকে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। প্যানেল বড় হলে মান নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে। তাই প্রথমে ভিত্তি মজবুত করে ধীরে ধীরে প্যানেল ছোট করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে রেফারিরা আরও বেশি ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পাবেন। এ জন্য দেশে আরও বেশি ঘরোয়া ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজনের ওপর জোর দেন তিনি। এটি মূলত একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রতিটি ম্যাচেই সবসময় নতুন কিছু শেখার সুযোগ থাকে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের রেফারিদের প্রকৃত সক্ষমতা দেখার জন্যই এই নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পেশাদারিত্ব ও কাজের মান বৃদ্ধি প্রসঙ্গে সাইমন টফেল বলেন, ‘শ্রেষ্ঠত্বের কোনো সীমানা নেই। তাই যখনই আমরা পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও তা বাস্তবায়ন করি, আমাদের ভালো ফিডব্যাক প্রয়োজন হয়।’
