পটুয়াখালীর দুমকিতে জমি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের ঘটনায় মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক গণসংযোগ বিষয়ক সম্পাদক মো. ফিরোজ আলমকে। গত ২৬ মার্চ ছাত্র অধিকার পরিষদের পটুয়াখালী জেলার সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক মোঃ মনির মোল্লার করা চাঁদাবাজির মামলায় ছাত্রদল নেতাকে ৯ নম্বর আসামি করা হয়েছে। কিন্তু ঘটনাস্থলের সিসি ফুটেজে তার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এই ঘটনার সাথে ছাত্রদল নেতা ফিরোজ জড়িত নয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২৫ মার্চ ফিরোজ আলমের নির্দেশক্রমে ৩ লক্ষ টাকা চাঁদা চেয়ে না পাওয়ায় মনির মোল্লাকে মারধর করে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা নেওয়া হয়েছে।
এসব নিয়ে প্রতিবেদক অন্তত ১০ জন প্রত্যক্ষদর্শীর সাথে কথা বলেন। তারা জানান, সেদিন কোনো চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেনি। প্রত্যক্ষদর্শী রফিক ডাক্তার জানান, ওইদিন রাতে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মাঝে সংঘর্ষ হয়েছে। কিন্তু সেখানে ফিরোজ আলমকে দেখিনি। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জমির মাপজোখ নিয়ে দুই পক্ষের মাঝে কথা হচ্ছে। তখন দোকানে থাকা মনির মোল্লা হকিস্টিক বের করলে বাইরে থাকা ব্যক্তিরা ক্ষিপ্ত হয় এবং সংঘর্ষ হয়। তবে সেখানে ফিরোজ আলমের উপস্থিতি নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত ২৫ তারিখ সকালে। প্রত্যক্ষদর্শী লিটন হাওলাদার বলেন, ঘটনার দিন সকালে ফিরোজের মা এবং ছোট ভাই আরিফ তার বাবার ক্রয়কৃত পাড় বাঁধানো জমিতে এসে দেখেন পিলার নেই। অন্যের জমিকে ফিরোজ আলমদের জমি হিসেবে নতুন পিলার মারা। তারা জানাতে চাইলে মনির মোল্লা বলে বাকি (চাঁদা) টাকা না দিলে জমি দখল করতে দেবেন না। তখন তার মা বলে জমি ক্রয়ের সময় ২৫ হাজার, আবার মাটি কাটার সময় ২০ হাজার চাঁদা দিয়েছি; এটাই তো বেশি। আর কোনো চাঁদা দেব না, এরপর আসলে মাইর খাবি। তখন তাদের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়।এক পর্যায়ে মনির মোল্লা, তার বাবা, চাচাতো ভাইরসহ কয়েকজন আরিফকে মারতে আসে। স্থানীয়রা তাদের ফিরিয়ে দিয়ে শান্ত করেন এবং আগের জায়গায় পিলার পুতে দেন।
ছাত্রদল নেতা ফিরোজ আলম বলেন, আমার বাবার জমি ক্রয়ের দিন মনির মোল্লার বাবা কৌশলে ২৫ হাজার টাকা এবং ১৩ তারিখ মাটি কাটার সময় মনির ২০ হাজার টাকা চাঁদা নিয়েছে; যার স্বাক্ষীও আছে। আগে তারা আওয়ামী লীগের সহযোগী ছিলো, তখন বাধ্য হয়ে চাঁদা দিয়েছি এখন কোনা চাঁদা দিবো না। আরও ৮০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করলে আমার মা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। ২৫ তারিখ সকালে মা এবং ছোট ভাই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আরিফ হোসাইনের সাথে অসদাচরণ করে। এসময় আমি বা পরিবারের অন্য কেউ উপস্থিত ছিলাম না।
তিনি আরও বলেন, সন্ধ্যায় ইউনিভার্সিটি স্কোয়ারে গিয়ে আরিফ জানতে পারে, জমির পিলার পুনরায় উঠিয়ে ফেলা হয়েছে। তখন আরিফ মনিরের দোকানে গিয়ে কারণ জানতে চাইলে মনির ক্ষিপ্ত হয়ে তার দোকানে পূর্ব সংগ্রহীত হকিস্টিক বের করে। যা দেখে উপস্থিত জনতা ক্ষিপ্ত হয়। তারা মনিরকে দোকান থেকে টেনে বের করেন এবং দুই পক্ষের মাঝে সংঘর্ষ হয়। সেই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দিয়ে তাকেসহ ৯ জনের নামে মিথ্যা এবং বানোয়াট চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনার সাথে তিনি কোনোভাবে জরিত নয়, সিসিটিভি ফুটেজেও তাকে পাওয়া যাবে না।তার দাবি, শীঘ্রই ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি হবে, তাই তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নষ্ট করার পাশাপাশি সম্মানহানি করার উদ্দেশ্যে তাঁকে ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মনির মোল্লা বলেন, জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব থাকলেও আমার নামে কোনো জমি নেই। ফিরোজ আলম ওখানে উপস্থিত না থাকলেও তার নির্দেশে সবকিছু হয়েছে। এ বিষয়ে দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ সেলিম উদ্দীন বলেন পূর্ব থেকেই দুই পক্ষের সাথে জমি নিয়ে সমস্যা ছিল। এটা চাঁদাবাজি নাকি জমির বিরোধ সেটা তদন্ত সাপেক্ষে পরে বলতে পারবো। প্রতিপক্ষ দাবি ফিরোজ আলমের নির্দেশে এমন ঘটনা ঘটেছে। যেহেতু আমরা তাকে ভিডিও ফুটেজে পাচ্ছি না, তার নির্দেশ আছে কিনা সেটা আমরা তদন্ত চালাচ্ছি।
