ফেসবুক ও ইউটিউবে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে দ্রুত লাভের প্রলোভন দেখিয়ে পাচার হয়ে যাওয়া প্রায় ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ফেরত এনছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ- সিআইডি। অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক প্ল্যাটর্ফম এমটিএফইয়ের (মেটারভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জ) মাধ্যমে পাচার হওয়া এই ডলারের মূল্য প্রায় ৪৪ কোটি ১৪ লাখ টাকার বেশি। উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে এই অর্থ লুটে নেয় একটি অসাধু চক্র। সোমবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগের সিআইডির সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানিয়েছেন সংস্থাটির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার।
তিনি বলেন, ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট রাজধানীর খিলগাঁও থানায় একটি প্রতারণার মামলা দায়ের হয়। মামলায় ভুক্তভোগী দাবি করেন, ‘এমটিএফই পনজি স্কিম’-এ বিনিয়োগ করে তিনি ২ লাখ টাকা প্রতারিত হয়েছেন। ওই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে জানাতে পারি- ওই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অসংখ্য বিনিয়োগকারী কোটি কোটি টাকার প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তদন্তে আরো জানা যায়, ২০২২ সালের জুন থেকে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে এমটিএফই। ফেসবুক ও ইউটিউবে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে দ্রুত লাভের প্রলোভন দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা হয়।
ব্যবহারকারীদের ভার্চুয়াল ট্রেডিং অ্যাকাউন্টে ডিজিটাল ডলার দেখানো হলেও বাস্তবে এসব লেনদেন ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া। মূলত কৃত্রিমভাবে লাভ দেখিয়ে নতুন বিনিয়োগ আনাই ছিল ওই চক্রের মূল কৌশল। তিনি বলেন, শুরুতে কিছু অর্থ ফেরত দিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করে চক্রটি।
পরে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ কার্যক্রম বন্ধ করে উধাও হয়ে যায় তারা। বিনিয়োগকারীদের অর্থ বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটে স্থানান্তরের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়। প্রতারণার মাধ্যমে আদায়কৃত প্রায় ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ ওকেএক্স-এ সংরক্ষিত ছিল। ব্লকচেইন বিশ্লেষণ টুল ব্যবহার করে এ অর্থের সঙ্গে প্রতারণা চক্রের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করা হয়।
পরবর্তীতে ওকেএক্স-এর লিগ্যাল টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করে আইনগত প্রক্রিয়ায় অর্থ ফেরতের উদ্যোগ নেয় সিআইডি। আদালতের নির্দেশনায় রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের মালিবাগ শাখায় সিআইডির নামে একটি সরকারি হিসাব খোলা হয়। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যভিত্তিক অ্যাসেট রিয়েলিটি লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে পাচারকৃত ক্রিপ্টোকারেন্সি বৈধ মুদ্রায় রূপান্তরের ব্যবস্থা করা হয়।
সব প্রক্রিয়া শেষে ৩৬ লাখ ২২ হাজার ৯৯৮ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ সোনালী ব্যাংকের ওই হিসাবে জমা হয়, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৪ কোটি ১৪ লাখ টাকার বেশি। যুক্তরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক সহায়তার ফলে তুলনামূলক স্বল্প সময়ে এই অর্থ উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের মধ্যে অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। পাশাপাশি পাচার হওয়া অবশিষ্ট অর্থ শনাক্ত ও উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, বলেন, আমাদের দেশের মানুষ লোভের ফাঁদে পড়ে দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে। এসব চক্রের ফাঁদে পড়ে ভুক্তভোগীরা টাকা, স্বর্ণালংকার, জমিজমা বিক্রি করে টাকা বিনিয়োগ করে। পরে তারা সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায়। অনেকেই সামাজিক মর্যাদাসহ নানা কারণে আইনের আশ্রয় নেয় না। তাই আমি গণমাধ্যমের কাছে অনুরোধ করবো আপনাদের লেখনীর মাধ্যমে আমাদের দেশের মানুষ সচেতন হবে। এই চক্রের ফাঁদে পড়ে কি পরিমাণ মানুষ ভুক্তভোগী হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সঠিক সংখ্যা বলা কঠিন। কারণ অনেকেই আমাদের কাছে আসেননি। আমরা চেষ্টা করছি ভুক্তভোগীদের হারানো অর্থ আইন অনুযায়ী ফেরত দিতে।

Badsha Wazed Ali
২ মাস আগেReturning money from a fake investor group is surely a great success, but the reporter has not given credit to the interim government led by Dr. Younus.