মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক দুই মামলায় ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আগামী ৭ই এপ্রিল হাজিরের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
এদিন বেলা সোয়া ১১টায় চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর ট্রাইব্যুনালকে বলেন, ডিজিএফআই’র সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মামুন খালেদ ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী দু’টি মামলায় রিমান্ডে আছেন। আমরা তাদেরকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট চাচ্ছি। এছাড়া মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য তারিখ চাচ্ছি, সেদিন তাদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে। পরে ট্রাইব্যুনাল, প্রসিকিউশনের এ আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ৭ই এপ্রিল বেলা সাড়ে ১০টায় তাদের হাজির করার আদেশ দেন। উল্লেখ্য, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে ফেনীতে জুলাই হত্যাযজ্ঞের মামলায় ও মামুন খালেদকে গুমের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে প্রসিকিউশন।
কোনো দায়মুক্তি নয়, তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে বিচারের সম্মুখীন করবো: কোনো দায়মুক্তি নয়, ট্রাইব্যুনাল স্বাধীনভাবে তদন্ত করবে। মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এবং মামুন খালেদ দু’জনের বিরুদ্ধে ১/১১-র অনেক অমানবিক বা মানবতাবিরোধীর অপরাধ আছে। তাদের বিরুদ্ধে ১/১১ থেকে শুরু করে বিগত সরকারের আমল পর্যন্ত যত মানবতাবিরোধী অপরাধ তারা করেছে, সবগুলোই আমরা তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করার চেষ্টা করবো এবং তাদেরকে বিচারের সম্মুখীন করবো বলে মন্তব্য করেছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, শেখ মামুন খালেদ এবং মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর এবং দুষ্কৃতিকারী ছিল। তাদের অতীতের বহু কর্মকাণ্ড মানবতাবিরোধী অপরাধের মধ্যে পড়ে। ১/১১ এবং পরবর্তী সময় আমাদের ফ্যাসিস্ট সরকার আওয়ামী লীগের দুইজন দোসর, অনেক মানবতাবিরোধী অপরাধের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তারা জড়িত। যারা এই দেশের গণতন্ত্র, সুশাসন বিনষ্ট করবার জন্যে এবং আয়নাঘরসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে খুন, গুম ইত্যাদির সঙ্গে জড়িত, সেই রকম দুইজন দুষ্কৃতিকারী কর্মকর্তা একজন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, আরেকজন শেখ মামুন খালেদ। ইতিমধ্যে তারা গ্রেপ্তার হয়েছেন। তারা অন্য মামলায় পুলিশি হেফাজতে বা রিমান্ডে আছেন। তাদের অতীতের যে কর্মকাণ্ড, তাদের বহু কর্মকাণ্ড, আমাদের মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায়িত অপরাধের মধ্যে পড়ে। অভিযুক্ত দুই আসামির সব অভিযোগ এখনই প্রকাশ করার সুযোগ নেই উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাদের বিচার হওয়া প্রয়োজন। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আজকে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় থেকে এই দু’জনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। দুষ্কৃতিকারীদের এই ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে উপযুক্ত শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। যাতে ভবিষ্যতে এরকম সরকারি দায়িত্বে থেকে কোনো কর্মকর্তা মানবতাবিরোধী কোনো অপরাধ করার সাহস না পায়।
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মাসুদ ও মামুনকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ
স্টাফ রিপোর্টার
৩০ মার্চ (সোমবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
