রাজধানীর মগবাজার এলাকায় নবীন ফ্যাশনের একটি পাঞ্জাবির দোকান বন্ধ করে দেয়ার ঘটনায় নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন হাতিরঝিল থানার ওসি গোলাম মর্তুজা। গতকাল ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে হাজির হয়ে তিনি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেয়ার পাশাপাশি নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জামাল উদ্দিন মারজিন বলেন, আদালত ওসি’র বক্তব্য শুনেছেন। নবীন ফ্যাশন বন্ধের দিনে কয়েকজন নিজেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বন্ধু, স্বজন মর্মে পরিচয় দেন। তাদের বিষয়ে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের মতামত চেয়েছেন। ওসি যে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন, সে বিষয়ে আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেছেন। এ ঘটনায় ওসি গোলাম মর্তুজাকে ইতিমধ্যে হাতিরঝিল থানা থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে, সে কথা আদালতকে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।
অফারের কারণে দোকানের সামনে বিশৃঙ্খলা হচ্ছিল: ওসি আদালতকে জানান, মগবাজারের বিশাল সেন্টারে প্রায় ৩ বছর ধরে “নবীন ফ্যাশন” নামে একটি পোশাকের দোকান ব্যবসা চালাচ্ছে। তারা কম দামে পণ্য বিক্রি করে এবং বিভিন্ন সময় আকর্ষণীয় অফার দেয়। একই মার্কেটে আরও কয়েকটি পুরনো দোকান আছে- যেমন প্রিন্স ফ্যাশন, কিংস ফ্যাশন ও আল মোস্তফা-যারা অনেকদিন ধরে ব্যবসা করছে। গত ২০শে মার্চ নবীন ফ্যাশন একটি বড় অফার দেয় ২টি পাঞ্জাবি কিনলে ৪টি ফ্রি, বাইকারদের জন্য ইঞ্জিন অয়েল ফ্রি, এমনকি রিকশা ভাড়াও ফ্রি।
তারা ফেসবুক ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে এই প্রচার করে। এতে জুমার নামাজের আগ থেকেই দোকানের সামনে প্রচুর ভিড় জমে যায়। প্রতি মুহূর্তে প্রায় ১০০-১২০টি মোটরসাইকেল আসা-যাওয়া করতে থাকে। এই অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে দোকানের সামনে, পার্কিংয়ে এবং আশপাশের দোকানগুলোর সামনে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। নবীন ফ্যাশন এই চাপ সামাল দিতে না পেরে বিকাল ৫টার দিকে ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে তাদের অফার বন্ধ করে দেয় এবং দোকানের সামনে শাটার নামিয়ে দেয়। কিন্তু তখনো ক্রেতারা পেছনের গেট দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করে। এতে পরিস্থিতি আরও অগোছালো হয়ে যায়। এ অবস্থায় মার্কেটের সিকিউরিটি গার্ড বিষয়টি কমিটির সভাপতি তৈয়ব আলী, সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন মাইকেলসহ অন্যদের জানায়। তারা দোকানে গিয়ে নবীন ফ্যাশনের কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। তখন সেখানে থাকা পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি ঠাণ্ডা করার জন্য তাদের বাইরে নিয়ে আসে।
ঈদ উপলক্ষে ওই মার্কেটে আগেই পুলিশ মোতায়েন ছিল। দায়িত্বে থাকা এএসআই আরিফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, দোকানের সামনে ও ভেতরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, ক্রেতারা বিশৃঙ্খলভাবে ঢোকার চেষ্টা করছে। তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং ভিড় সরিয়ে দেন। তার কারণে কোনো মারামারি, ভাঙচুর বা লুটপাট হয়নি।
নবীন ফ্যাশন বন্ধ হাতিরঝিল থানার ওসির নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা
স্টাফ রিপোর্টার
৩০ মার্চ (সোমবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
