ফিরেই তদন্ত কমিটির মুখোমুখি বুলবুল

ফিরেই তদন্ত কমিটির মুখোমুখি বুলবুল

ফন্ট সাইজ:

সবশেষ বিসিবি নির্বাচন নিয়ে অস্বচ্ছতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বেশির ভাগ ক্লাব ও জেলা সংগঠকরা এই নির্বাচনকে অবৈধ দাবি করছেন। নির্বাচন সঠিক প্রক্রিয়ায় হয়েছে কিনা, তা জানতে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। এই কমিটির রিপোর্টের ওপরই নির্ভর করছে বিসিবি’র বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের ভাগ্য। জানা গেছে, তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হতেই দেশে ফিরেছেন বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। গত ২৮শে মার্চ রাতে অস্ট্রেলিয়া থেকে আসেন তিনি। পরদিনই মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে যান। সেখানে ক্রিকেটারদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তবে তার এই ফেরা রুটিনমাফিক নয়। ২০২৫ সালের ৬ই অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচনে ওঠা ব্যাপক অনিয়ম ও কারসাজির জবাব দিতেই তাকে সশরীরে তলব করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই তদন্ত কমিটি তার প্রাথমিক বক্তব্য নিয়েছে। এই তদন্ত ক্রীড়াঙ্গনে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তদন্ত কমিটির সদস্য ও সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক এ টি এম সাইদুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের কার্যক্রম খুব ভালোভাবে চলছে। আমাদের ছয়টা কার্যদিবস গেছে, আরও নয়টা কার্যদিবস আছে। আমরা নির্ধারিত সময়ে আমাদের পর্যবেক্ষণ এনএসসিকে জমা দিতে পারবো। আমরা খুবই আশাবাদী। বিসিবি’র সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল তার সঙ্গেও আমরা কথা বলবো।’ ঢাকার ক্লাব সংগঠকদের একটি বৃহৎ অংশ এই নির্বাচন নিয়ে ক্ষুব্ধ। তারা শুরু থেকেই নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে অস্বচ্ছ দাবি করছে। বিক্ষুব্ধ সংগঠকদের নেতৃত্বে আছেন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল ও মোহামেডানের পরিচালক মাসুদুজ্জামান। তাদের অভিযোগ, প্রায় ৫০টি ক্লাবকে অন্যায়ভাবে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। কাউন্সিলর মনোনয়নে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। ভুয়া ভোটার তালিকার মাধ্যমে বিশেষ গোষ্ঠীকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ১৫ কার্যদিবসের সময় বেঁধে দেয়া হয়। এরপর অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তের এই পর্যায়ে সাক্ষীদের ডাকা হচ্ছে। এ বিষয়ে এ টি এম সাইদুজ্জামান জানান, ‘সব পক্ষের অনেককে আমরা ডাকছি। সব পক্ষের কথা শোনা হচ্ছে। আপনি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বলেন, বিসিবি নির্বাচন কমিশন, বিসিবি এবং অভিযোগকারী, সবাইকে আমরা মনোযোগ দিয়ে শুনছি।’
তদন্ত কমিটি কেবল বর্তমান অভিযোগগুলোর মাঝেই সীমাবদ্ধ নেই। বিসিবি’র অতীত নির্বাচনগুলোতেও নজর দেয়া হচ্ছে। সেখানে ক্ষমতার অপব্যবহারের সাধারণ প্রবণতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে অভিজ্ঞ ক্রীড়া সংগঠকদের তলব করা হয়েছে। তারা বোর্ড নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য হলো ভবিষ্যতে একটি স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক কাঠামো নিশ্চিত করা। তদন্তের পরিধি নিয়ে এ টি এম সাইদুজ্জামান বলেন, ‘আরও দুই-একজন অভিজ্ঞ ক্রীড়া সংগঠককে ডাকা হয়েছে। তারা বিসিবি’র পুরোনো নির্বাচনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। জিনিসগুলো কীভাবে ধারাবাহিকভাবে হয়ে আসছে, সেগুলো জানারও আমাদের আগ্রহ ছিল। যদিও এটি এই তদন্তের কাজের আওতাভুক্ত নয়। তবুও আমরা একটি ট্রেন্ড বা প্রবণতা জানতে চাইছিলাম। বিসিবি’র নির্বাচনে আসলে কী হয়, তা বাকিদের অবগত করার জন্যই দু-একজনকে ডেকেছিলাম।’
বিসিবি’র এই অস্থিরতার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ঘরোয়া ক্রিকেটে। বিদ্রোহী ক্লাবগুলো জোরালো আন্দোলন গড়ে তুলেছে। এর ফলে প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগ লীগ বয়কটের ঘটনা ঘটেছে। এতে মাঠে খেলা গড়ানো নিয়ে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির মাঝেই বিসিবি সভাপতি দেশে ফিরে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। একদিকে ক্রিকেটারদের আস্থা ধরে রাখা জরুরি। অন্যদিকে তদন্ত কমিটিকে সন্তুষ্ট করাও তাঁর প্রধান কাজ। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। কমিটি আগেই এমন ইঙ্গিত দিয়েছে। আইনি ব্যত্যয় নিয়ে এ টি এম সাইদুজ্জামান বলেন, ‘এনএসসির যে আইন, তদন্ত, সবকিছু নিয়ে আমরা কাজ করছি। কোথাও কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, আমাদের তো জানতে হবে। আমাদের শুধু অভিযোগ শুনলেই হবে না। অভিযোগের বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করার জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। আমরা রিপোর্ট দেওয়ার পর, বাকিটা এনএসসি নিয়ম অনুসারে করণীয় নির্ধারণ করবে।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন