রাজশাহী অঞ্চলে বেড়েই চলেছে শিশুরোগ ‘হাম’, শনাক্তের হার ৩১ শতাংশ

ফন্ট সাইজ:

রাজশাহী অঞ্চলে শিশুদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ছে অত্যন্ত সংক্রামক রোগ ‘হাম’। এর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের নমুনা পরীক্ষা করে হাম রোগের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বিভাগের সাতটি সদর হাসপাতাল এবং চারটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় (আইপিএইচ) নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করছেন।
স্বাস্থ্যের রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান গতকাল মানবজমিনকে জানান, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে রাজশাহী বিভাগের হাসপাতালগুলোতে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুরা ভর্তি হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিভাগের ২৪৬ জন শিশুর নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করে। এতে ৭৭ জনের হাম পজিটিভ রিপোর্ট আসে। ছোঁয়াচে এ রোগ শনাক্তের হার প্রায় ২৯ শতাংশ। আমরা হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশনের ব্যাবস্থা করছি। এরই মধ্যে পাবনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে আইসোলেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্য যেই জায়গাগুলোতে বেশি সেগুলোতে আইসোলেশনের চেষ্টা চলছে। চিকিৎসকরা বলছেন, হাম পজিটিভ ও উপসর্গ থাকা শিশুদের হাসপাতালে আলাদা রাখার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে, যাতে অন্য শিশুদের মাঝে সংক্রামক রোগটি ছড়িয়ে না পড়ে। তবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক দেখা গেছে। শিশুদের ওয়ার্ডে অন্য সব শিশুর মাঝে হামের উপসর্গ থাকা শিশুদেরও চিকিৎসা চলছে। রামেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডেই হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুদের ভর্তি থাকতে দেখা গেছে। গুরুতর অসুস্থ কোনো কোনো শিশুকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকজন শিশুকে আইসিইউতে নিয়েও বাঁচানো যায়নি।
রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডাক্তার গোলাম রাব্বি মানবজমিনকে জানান, আমাদের এখানে এখনো হামের জন্য আইসোলেশনের ব্যবস্থা করা হয়নি, আমরা সাধারণ শিশু ওয়ার্ডেই ভর্তি দিচ্ছি। তবে রোববার দুপুরের পর থেকে কোনো হামে আক্রান্ত শিশু ভর্তি হতে আসেনি। এদিকে হাসপাতাল থেকে দেয়া মৃত্যু সনদে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণ হিসেবে নিউমোনিয়া বা অন্যান্য রোগ উল্লেখ করা হলেও ‘হাম’ শব্দটি অনুপস্থিত। এতে রোগটির প্রকৃত পরিস্থিতি আড়াল করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আড়াই মাস বয়সী জহির নামের এক শিশুর মৃত্যু সনদে ‘হাম’-এর উল্লেখ পাওয়া গেছে। শিশুটির মা জানান, তার সন্তানকেও আলাদা না রেখে সাধারণ ওয়ার্ডেই চিকিৎসা দেয়া হয়েছিল। ভর্তি হওয়ার তিনদিনের মাথায় গত ১৮ই মার্চ সকালে শিশুটি মারা যায়। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. শাহিদা ইয়াসমিন মানবজমিনকে বলেন, আমাদের ওয়ার্ডে এখন পর্যন্ত ২৫ জন শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ছুটি হয়ে গেছে। আরও ৮০ জন শিশু র‌্যাস নিয়ে ভর্তি আছে যারা সন্দেহভাজন তাদের পরীক্ষা করা হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা এ জাতীয় শিশুগুলো সাধারণ ওয়ার্ডেই কিছুটা আইসোলেটেড করে চিকিৎসা দিচ্ছি। এই হাম সংক্রমন এখন স্থিতিশীল। আশা করছি আস্তে আস্তে কমে যাবে। তবে কিছুটা সময় লাগবে।




কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন