বিশ্বপানে এক নতুন সাহিত্যযাত্রা ‘চাঁদের পাহাড়’

বিশ্বপানে এক নতুন সাহিত্যযাত্রা ‘চাঁদের পাহাড়’

ফন্ট সাইজ:

দোহার-নবাবগঞ্জের মাটিতে সাহিত্যচর্চার নতুন স্রোত যোগ করলো ‘চাঁদের পাহাড়। এটি শুধুমাত্র একটি অনলাইন ম্যাগাজিন নয়, এটি যেন এক স্বপ্নের নাম, এক সাংস্কৃতিক অঙ্গীকার, যেখানে চিন্তা, শিল্প ও সাহিত্যের বহুমাত্রিক প্রকাশ ঘটবে একই ছাদের নিচে।
নবাবগঞ্জের বান্দুরায় এক আন্তরিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ করে অনলাইন প্লাট ফর্ম। তবে এটি কেবল একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছিল না; বরং দোহার-নবাবগঞ্জ অঞ্চলের কবি, লেখক, শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় রূপ নেয়।
বাংলাদেশের সাহিত্যচর্চা দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীকেন্দ্রিক হলেও মফস্বলের লেখকদের ভেতরে রয়েছে এক অজানা শক্তি, অপ্রকাশিত সম্ভাবনা। ‘চাঁদের পাহাড়’ সেই সম্ভাবনাকেই সামনে নিয়ে আসার একটি প্রয়াস। এখানে যেমন থাকছে নবীনদের লেখা, তেমনি জায়গা পাচ্ছেন অভিজ্ঞ লেখকরাও।
পত্রিকাটির সম্পাদক জেমস আনজুসের কথায়, “আমরা কোনো গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকতে চাই না। চিন্তার স্বাধীনতা ও শিল্পের গভীরতাকে সামনে রেখে একটি মুক্ত প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে চাই।” এই বক্তব্যেই স্পষ্ট—‘চাঁদের পাহাড়’ কেবল লেখা প্রকাশের জায়গা নয়, বরং এটি একটি চিন্তার আন্দোলন।
এটি সাহিত্যের পাশাপাশি চিন্তা ও শিল্প
পত্রিকাটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য এর বহুমাত্রিকতা। কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ কিংবা গদ্যের বাইরে এখানে রয়েছে ‘কিচিরমিচির’ নামে শিশুদের বিভাগ, রয়েছে শিল্প প্রদর্শনী। আত্মপ্রকাশ সংখ্যায় চিত্রশিল্পী ইহসান আননূরের ‘ইছামতির পুঁথিগান’ শীর্ষক ওয়েব প্রদর্শনী একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এতে বোঝা যায়, ‘চাঁদের পাহাড়’ শুধু লেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না; বরং শব্দ, রং ও চিন্তার সম্মিলিত এক সৃজনভূমি গড়ে তুলতে চায়।
লেখক-শিল্পীদের মিলনমেলায় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্টজনরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেন থেকে শুরু করে কবি, গবেষক, সাংবাদিক—সবাই একত্রিত হন এই আয়োজনে। উপস্থিত ছিলেন দুদকের সাবেক পরিচালক মোজাম্মেল হুসেইন খান, কবি ভুলু রহমান, সাংবাদিক রাশিম মোল্লা, লেখক ও গবেষক সায়মা রহমান তুলি, ফেরদৌস রহমান তমাল, এস এম আজাদ রহমান, এডভোকেট মার্টিন ফলিয়া, সেলেস্টিন রোজারিও, অমিত কুমার বর্মন, স্টালিন সাগর এবং রাসেল রহমান শিমুল সহ অনেকে।
অধ্যাপক ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, দোহার-নবাবগঞ্জের আজকের আয়োজনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি নতুন এই পত্রিকাটির জন্য বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ প্রদান করেন। চাঁদের পাহাড়ের পৃষ্ঠপোষক এভারেস্ট ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির পরিচালক জনাব মজনু মোল্লা, চাঁদের পাহাড়ের এই নবযাত্রায় শুভ কামনা জানান। তাদের উপস্থিতি নতুন এই উদ্যোগকে যেমন সমৃদ্ধ করেছে, তেমনি দিয়েছে অনুপ্রেরণা। এই ধরনের আয়োজন মফস্বলে খুব একটা দেখা যায় না। ফলে ‘চাঁদের পাহাড়’-এর উদ্বোধন এক অর্থে একটি সাংস্কৃতিক জাগরণের ইঙ্গিতও বহন করে।
পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক প্লাসিড প্রণয় গমেজ বলেন, “বাংলার শিল্প ও সাহিত্যকে এগিয়ে নিতে কাজ করবে ‘চাঁদের পাহাড়’।” এই প্রত্যয়ই তাদের পথচলার মূল শক্তি। আজকের ডিজিটাল যুগে ওয়েবভিত্তিক সাহিত্যচর্চা ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে। কিন্তু সেই জায়গায় মানসম্মত, চিন্তাশীল এবং নান্দনিক একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা সহজ কাজ নয়। ‘চাঁদের পাহাড়’ সেই চ্যালেঞ্জ নিয়েই যাত্রা শুরু করেছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন